শিল্প–সাহিত্য চর্চায় রাজনীতিকীকরণ সভ্য সমাজের পরিচয় নয়: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১৩ | অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প–সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নৈতিক মানসম্পন্ন উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত একুশে পদক–২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য হুবহু তুলে ধরা হলো—
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সম্মানিত সুধীবৃন্দ,
স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথমবারের মতো ১৯৭৬ সালে একুশে পদক প্রবর্তন করেন। এটি শুধু একটি পদক নয়, বরং এই পদকের মাধ্যমে ৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীকে স্মরণে আনা হয়। পাশাপাশি, যেসব বিজ্ঞজন শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, গবেষণা ও চর্চায় নিজেদের এবং রাষ্ট্র ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন, তাদের সঙ্গে আপামর জনসাধারণের পরিচয় ঘটেছে।
শুরুতে তিনটি ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এর যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, শিক্ষা, গবেষণা, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সম্ভবত কমপক্ষে ১২টি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য এ সম্মাননা প্রদান করা হচ্ছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অর্জন। জ্ঞান, বিজ্ঞান বা শিল্প–সাহিত্য চর্চার ধারা আরও শানিত এবং বিকশিত হোক—এটি আমার প্রত্যাশা। শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প–সাহিত্য চর্চাকে আরও বেগবান করতে রাষ্ট্র ও সরকার তার দায়িত্ব অবশ্যই পালন করবে।
আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষা, গবেষণা এবং শিল্প–সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়। শিক্ষা, সাহিত্য, শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি—অর্থাৎ জ্ঞান ও বিজ্ঞানের সব শাখায় যাতে দেশ এগিয়ে যেতে পারে, নৈতিক মানসম্পন্ন উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে। আমাদের এই যাত্রায় দেশের বিজ্ঞজনদের দিকনির্দেশনা প্রত্যাশিত।
সম্মানিত সুধীবৃন্দ,
আমাদের জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের আত্মপরিচয়ের স্মারক। বলা যায়, আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশে ফেব্রুয়ারি একদিকে মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম, অপরদিকে এটি ছিল জালেমের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। সুতরাং, ফেব্রুয়ারি মানেই আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস, আমাদের শেকড় সন্ধানী মাস।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও আমরা দেশের জ্ঞানী, গুণী কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও ভাষাসংগ্রামীকে একুশে পদকে ভূষিত করেছি। জ্ঞানী ও গুণীদের কর্ম এবং কর্মময় জীবনের সঙ্গে আপামর জনগণের পরিচয় করিয়ে দেয়া রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব।
প্রিয় সুধীবৃন্দ,
একুশ আমাদের অবিনাশী চেতনা, স্বাধিকার অর্জনের বীজমন্ত্র। এবার আমরা ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণ করেছি। অমর একুশের ভাষা শহিদদের স্মরণে প্রবর্তিত আজকের একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে ভাষা সংগ্রামীদের স্মরণ করছি। আল্লাহ তাদের মৃত্যুকে শহীদি মৃত্যু হিসেবে কবুল করুন। আজ যারা একুশে পদকে ভূষিত হলেন, আপনাদের সবাইকে জানাচ্ছি আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। আপনারা সৃজনমুখর জীবন কাটান, কল্যাণময় হোক—এটি আল্লাহর দরবারে আমার প্রার্থনা।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিশ্চয়ই একদিন বিশ্ব সাহিত্যের জগতে আলো ছড়াবে—এমন গর্বিত দিনের প্রত্যাশা করে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি।
এর আগে, সচিবালয়ে বৈঠক শেষে পায়ে হেঁটে একুশে পদক অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে গুণীজনদের হাতে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দেন তিনি। দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবছর ৯ জন গুনি ব্যাক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে একুশে পদক গ্রহণ করেন— চলচ্চিত্রে ফরিদা আক্তার ববিতা, চারুকলায় অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, স্থাপত্যে মেরিনা তাবাশ্যুম, সংগীতে আইয়ুব বাচ্চু (মরণোত্তর), নাট্যকলায় ইসলাম উদ্দিন পালাকার, সাংবাদিকতায় শফিক রেহমান, শিক্ষায় অধ্যাপক মাহবুবুল আলম মজুমদার, ভাস্কর্যে তেজস হালদার যশ এবং নৃত্যকলায় অর্থী আহমেদ। এ বছর সংগীত দল হিসেবে একুশে পদক তুলে দেওয়া হয় ব্যান্ড ওয়ারফেজকে।
