ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানো হবে না: সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

  সিলেট প্রতিনিধি

ব্যক্তি খাতে কর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। কর বাড়ানো নিয়ে অর্থমন্ত্রীর একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গে শনিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ভুলভাবে মিডিয়ায় এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ট্যাক্স-জিডিপির রেশিও অনেক কম। আশপাশের সব দেশে এটি অনেক বেশি। বাংলাদেশে এই রেশিও কম হওয়ার কারণে আমাদের যে রাজস্ব আদায় হয়, তা সরকারের খরচ মেটাতেই চলে যায়। উন্নয়নে ব্যয় করা সম্ভব হয় না। তাই অর্থমন্ত্রী ট্যাক্স-জিডিপির রেশিও বাড়ানোর কথা বলেছেন। ব্যক্তি খাতে কর বাড়বে না।

শনিবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। মতবিনিময় সভায় প্রবাসী, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শজিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অংশ নেন।

মতবিনিময় সভা শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজানে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে। প্রথম দু’একদিন লেবুসহ কয়েকটি পণ্যের দাম অহেতুক বেড়ে গিয়েছিল। এখন আবার আগের অবস্থায় চলে এসেছে।

বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে মুক্তবাণিজ্য (ফ্রি ট্রেড) চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ঈদের আগেই শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি ও বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে।

এ সময় প্রবাসীকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বন্ধ থাকা বিভিন্ন শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। স্পেনে অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, পানিসম্পদ মন্ত্রী শজিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নদী ও খাল খনন এবং হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কাজ চলছে। এ কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকার কাজ করছে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে সিলেট অঞ্চলে প্রতিনিয়তই ঢলের পানি আসে। এ কারণে বর্ষায় এখানে বন্যা হয়ে যায়। এটি আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের কিছু প্রকল্প চলমান আছে। নতুন আরও কিছু প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া যৌথ নদী কমিশনেও আলোচনা হচ্ছে। এখানে দ্রুত যেসব কাজ করা প্রয়োজন, তা করা হবে।