নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
আলোকিত ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে যদি আমরা পেছনে রাখি, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিকভাবে তাদেরকে যদি ক্ষমতায়িত না করতে পারি, তাহলে দেশকে কোনোভাবেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানীতে কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন সমগ্র বাংলাদেশে তিনি নারীদের স্কুল পর্যায় থেকে ইন্টারমিডিয়েট লেভেল পর্যন্ত শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা করেছিলেন। সেই শিক্ষিত নারী সমাজকে আজকে আমরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করতে চাই, অর্থনৈতিকভাবে তাদের সচ্ছল করতে চাই। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করছে কীভাবে নারীর ক্ষমতায়ন আমরা করব, অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল করে তুলব। তারই অংশ হিসেবে আজকে এই ফ্যামিলি কার্ড আমরা সমগ্র বাংলাদেশে পর্যায়ক্রমে ইন্ট্রোডিউস (পরিচিত) করলাম।
তিনি আরও বলেন, সমগ্র বাংলাদেশে ১৪টি জায়গায় বা ১৪টি উপজেলায় এই কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এই মুহূর্তে প্রায় ৩৭ হাজার নারী অংশগ্রহণ করছে। আমাদের এই কড়াইল এলাকা, ভাষানটেক এলাকা এবং সাততলা এই তিন এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে এই কার্ডের সুবিধার আওতায় আজকে নিয়ে আসা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন,আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সরকার পর্যায়ক্রমিকভাবে বাংলাদেশে যে চার কোটি পরিবার রয়েছে, সেই চার কোটি পরিবারে যারা নারী প্রধান তাদের কাছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমিকভাবে সকলের কাছে এই ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার ফল জানিয়ে তিনি বলেন, এ উদ্যোগকে তিনি তার সরকার ও বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক একটি দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানটি আমাদের জন্য অত্যন্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, একটি স্মরণীয় দিন এবং একটি ঐতিহাসিক অনুষ্ঠান।’
দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করার অঙ্গীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি দায়িত্বশীল সরকারের ভূমিকা পালন করতে চাই, যে সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে, যে সরকার কাজ করবে দেশের জন্য।
সরকারপ্রধান বলেন, আমরা জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে চাই এবং তারই একটি অংশ হিসেবে আমাদের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের পূর্বে আমরা বাংলাদেশের মানুষ ও নারী সমাজের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডের কাজ শুরু করব। আমরা আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থনে বিগত নির্বাচনে সরকার গঠন করার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কাজ আমরা শুরু করেছি।
তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কাজও শুরু হয়েছে এবং আগামী মাসের মধ্যে অনেক কৃষকের হাতে সেই কার্ড তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
এ ছাড়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা কৃষক ভাইদের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যাদের কৃষি ঋণ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আছে, সুদসহ সেই ঋণ আমরা মওকুফ করব। গত সপ্তাহে সেই ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, এই ফ্যামিলি কার্ডটি ব্যক্তিগতভাবে আমার জন্য অত্যন্ত আবেগঘন। কারণ অনেক বছর ধরে আমরা পরিকল্পনা করেছি, সুযোগ পেলে এটি বাস্তবায়ন করব। আল্লাহর রহমতে আজকে আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরেছি।
তিনি বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা বর্তমান সরকারের কাছে অনেক, সেটি আমরা বুঝতে পারি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি গুলো দিয়েছিলাম, তা থেকে বিন্দুমাত্র অবস্থান পরিবর্তন করব না। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে ক্ষেত্রবিশেষে কিছু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হয়তো সময় বেশি লাগতে পারে। তাই সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী।
