মাঠ প্রশাসনে গতি আনতে বড় রদবদল করছে সরকার

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১৫:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

মাঠ প্রশাসনে গতি আনতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদলের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানিয়েছে, পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

এ লক্ষ্যে প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সরকার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় জোরদার করা এবং মাঠপর্যায়ে কাজের গতি বাড়ানোর উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলা প্রশাসন পর্যায়ে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম বড় পরিবর্তন। সরকারের নীতি বাস্তবায়ন ও প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে দ্রুত নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ১ মার্চ গাজীপুর, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া, নেত্রকোনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসকদের প্রত্যাহার করা হয়। তবে প্রত্যাহারের পর এসব কর্মকর্তাকে অন্য কোথাও পদায়ন না করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) রাখা হয়েছে।

প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— গাজীপুরের মোহাম্মদ আলম হোসেন, পঞ্চগড়ের কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, কুষ্টিয়ার মো. ইকবাল হোসেন, নেত্রকোনার মো. সাইফুর রহমান এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের মো. শাহাদাত হোসেন মাসুদ। উল্লেখ্য, তারা গত বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নিজ নিজ জেলায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের প্রত্যাহার করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, শুধু এই পাঁচ জেলা নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলাতেও দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তাদের ডিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুতই নতুন মুখ দেখা যেতে পারে।

জেলা প্রশাসকরা জেলা পর্যায়ে সরকারের প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারক, ভূমি প্রশাসন পরিচালনা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এই পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে মাঠ প্রশাসনে গতি আনতে নতুন সরকারের এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।