হাদি হত্যাকাণ্ডে ভারতে গ্রেপ্তারকৃতদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস এখনো মেলেনি
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ২১:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য কনস্যুলার অ্যাক্সেস চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে মামলার দুই আসামিকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ফিলিপ সাংমার সঙ্গেও সাক্ষাতের আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের কাছ থেকে এ বিষয়ে কোনো অনুমতি পাওয়া যায়নি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, কনস্যুলার অ্যাক্সেস পাওয়ার বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কনস্যুলার অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা এবং তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব রয়েছে এবং তারা তাদের কাজ করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ নয়টি মানবাধিকার সংগঠন এক চিঠিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি এখনো ওই প্রতিবেদনটি পড়ে দেখেননি।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে বারবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। মানুষের সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত র্যাবকে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাতেও বাহিনীটি ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি একটি মানবিক সরকার গঠন করেছে এবং দেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই কাজ করছে। সরকার গঠনের সময় খুব বেশি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করলে তা আরও যথাযথ হবে এবং প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করাও প্রয়োজন।
এদিন বিকেলে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জঁ-মার্ক সেরে-শারলে। বৈঠকে ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস কেনার প্রসঙ্গ উঠেছে কি না জানতে চাইলে শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নিয়মিত আলোচনা হয়। ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির ভিত্তিতে সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে রোববার প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি আমদানি নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জ্বালানি খাতে আলোচনা চলছে। রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি ছাড়াও আরও অনেক বিষয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা দেশে ফিরতে চান তাদের জন্য বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর যারা এখনই ফিরতে পারছেন না, তারা যাতে নিরাপদে থাকতে পারেন সে বিষয়েও সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
