শিক্ষকরা হচ্ছেন জাতির ‘কায়রোপ্রাক্টিক ডক্টর’ : শিক্ষামন্ত্রী
প্রকাশ : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৯:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তবে সেই মেরুদণ্ডকে সোজা রাখার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষকদের জাতির ‘প্র্যাকটিক্যাল ডক্টর’ বা কায়রোপ্রাক্টিক ডক্টর হিসেবে অভিহিত করে বলেন, নানা সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষকদের নৈতিক ও পেশাগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
রোববার (২৯ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমিতে (নায়েম) নতুন সরকারি হওয়া কলেজ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘আগামীর বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান কোনো ব্যক্তি বা সরকারের একক এজেন্ডা নয়, বরং এটি একটি জাতীয় অঙ্গীকার। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের সন্তানতুল্য মনে করতে হবে।’
শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট করছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা শেষ করলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো এই পাবলিক পরীক্ষা পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুনে নেয়। এতে জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। এ বিষয়ে কার্যকর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেকে লিখিতভাবে সুপারিশ জমা দেবেন। শিক্ষকদের মতামত ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
শিক্ষা খাতকে ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রতিটি ভালো ফলাফল ‘সদকায়ে জারিয়ার’ অন্তর্ভুক্ত, যা শিক্ষককে দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে। অতীতের সীমাবদ্ধতা পেছনে ফেলে উন্নত বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং নায়েমের মহাপরিচালক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক উপস্থিত ছিলেন।
