বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে বৈঠক, এফটিএ আলোচনার প্রস্তাব
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬:১৮ | অনলাইন সংস্করণ
বাসস

ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন (এমসি১৪)-এর সাইডলাইনে গতকাল (রোববার) বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে বৈঠক হয়েছে।
প্যালেস দে কংগ্রেসে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং নিউজিল্যান্ডের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট মন্ত্রী টড ম্যাকক্লে অংশ নেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমানসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানিয়ে দু’দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী।
তিনি নবনির্বাচিত সরকারের লক্ষ্য তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে চায় এবং বাণিজ্যভিত্তিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে।
মন্ত্রী আঞ্চলিক বাণিজ্য জোট আরসিইপি (আরসিইপি)-এ যোগদানের বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা উল্লেখ করেন এবং এক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের সমর্থন কামনা করেন।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে বাংলাদেশের ভূ-অবস্থান এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী এ জোটে দেশটির অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও জানান, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে বাজার বহুমুখীকরণের কৌশলের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে এবং কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রী টড ম্যাকক্লে বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রশংসা করে বলেন, আরসিইপি জোটে বাংলাদেশ একটি উপযুক্ত অংশীদার হতে পারে। তিনি এ জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য অন্যান্য সদস্য দেশের সঙ্গে সমন্বয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এছাড়া তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) আলোচনার প্রস্তাব দেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা পৌঁছানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। জবাবে টড ম্যাকক্লে আমন্ত্রণ গ্রহণ করে চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নতুন অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুসন্ধানে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
