উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা-কুয়ালালামপুর সমঝোতা
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে একমত হয়েছে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ। বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ বাড়ানো এবং মালয়েশিয়ার সমাজে তাদের আরও ভালোভাবে একীভূত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দেশটির উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জাম্ব্রি আবদুল কাদির এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন-এর মধ্যে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মশক্তির গতিশীলতা বাড়ানোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
এ বৈঠকে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী-ও উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার শুরুতে দুই দেশই শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। মালয়েশিয়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নতুন নীতিমালার আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে।
বৈঠকে মাহ্দী আমিন আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ বিস্তারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশের মানবসম্পদকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো জরুরি। তিনি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা বাড়ানো এবং একটি কার্যকর বৃত্তি কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন, যাতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক সেবা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়িয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরির কথাও তিনি তুলে ধরেন, যাতে তারা সহজে মানিয়ে নিতে পারে এবং দক্ষতা উন্নয়নে পূর্ণ সুযোগ পায়।
দুই দেশের মধ্যে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অংশীদারিত্ব জোরদার, একাডেমিক বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং যৌথ শিক্ষা উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
জাম্ব্রি আবদুল কাদির বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলোকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিদ্যমান ও ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার কথাও জানান তিনি।
বৈঠকে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতের সক্ষমতা ও বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। বর্তমানে দেশটিতে ১১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, যাদের বড় অংশ বেসরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি।
উভয় পক্ষই এসব শিক্ষার্থীর একাডেমিক ও আর্থ-সামাজিক অবদানকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে। পাশাপাশি পারস্পরিক ডিগ্রি স্বীকৃতি, যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি, দূরশিক্ষণ ও নমনীয় শিক্ষা পদ্ধতি সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়। শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা কার্যক্রম সাজানোর বিষয়েও তারা একমত হয়।
স্নাতকদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের জন্য বাস্তবভিত্তিক কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে মালয়েশিয়া।
বৈঠকের শেষে বৃত্তি কাঠামো আরও শক্তিশালী করা, শিক্ষার্থী সহায়তা বৃদ্ধি এবং দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত ও সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আলোচনা শেষ হয়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে টেকসই অর্থনৈতিক ও জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
