জ্বালানি সংকট সমাধানের একমাত্র পথ নবায়নযোগ্য জ্বালানি: বিশেষজ্ঞদের মত
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ২২:১২ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলেন, আমদানি নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আজ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট পণ্যের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানোর দাবি জানান তারা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার প্রভাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশের বাজারেও পড়েছে। দেশে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে আলোচনায় উল্লেখ করা হয়।
এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র-এ একটি গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বক্তারা বলেন, সরকারকে দ্রুত তেল আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য একটি কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন মোট উৎপাদনের মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ। একটি স্বার্থান্বেষী মহল সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে— যেমন জমি সংকট ও কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা। তবে সময়মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর না হলে দেশের জ্বালানি সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন।
সরকার ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, অতীতে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারী রাজনীতিবিদরা বলেন, বিদ্যুৎ খাতে যারা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ক্ষতি করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়াতে দক্ষ জনবল তৈরি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, গত এক দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমালেও বাংলাদেশ এখনও বিপরীত পথে এগোচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
