ফজলুর রহমানের বক্তব্যে উত্তাপ, এক্সপাঞ্জের দাবি বিরোধী দলীয় নেতার
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বিএনপির সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান-এর বক্তব্যে জাতীয় সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করতে পারে না এবং শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করলে তা ‘দ্বিগুণ অপরাধ’।
তিনি বলেন, “এ বাংলায় শুধু বেলি-চামেলি বা জুঁই ফুলই ফোটে না, এখানে রক্ত গোলাপ ও রক্ত জবাও ফোটে। এ দেশে শুধু কোকিলের ডাক নেই, এ দেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও আছে।”
তিনি আরও বলেন, “যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে, ততদিন মুক্তিযোদ্ধারাই জিতবে, রাজাকাররা কখনো এ দেশে জয়ী হতে পারবে না।”
বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “অনেকে আমাকে ‘ফজা পাগলা’ বলে ডাকে, আর তারা নিজেদের সভ্য বলে দাবি করে।” পাশাপাশি বিরোধী দলীয় নেতাকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য দাবি করে জামায়াতের রাজনীতি করছেন, যা তার মতে ‘দ্বিগুণ অপরাধ’।
এর আগে নিজের বক্তব্য শুরুর সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাওর অঞ্চলের উন্নয়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, হাওর এলাকা রক্ষায় ৩৫টি জেলা নিয়ে একটি পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করা প্রয়োজন।
ফজলুর রহমানের বক্তব্যের পর স্পিকার বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান-কে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন।
প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ফজলুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে তাকে আঘাত করেছেন এবং অন্যের অবদান খাটো করার অধিকার কারও নেই। তিনি বলেন, “আমি কোন দলের রাজনীতি করব বা কোন আদর্শ অনুসরণ করব, সেটি আমার নাগরিক অধিকার। এতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার রাষ্ট্র বা সংবিধান কাউকে দেয়নি।”
তিনি আরও বলেন, তার পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং আদর্শ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে, যা তিনি গুরুতর অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিরোধী দলীয় নেতা স্পিকারের কাছে ফজলুর রহমানের বক্তব্যের অসংসদীয় অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
