আগামী ৭ মে উৎপাদনে ফিরছে ইস্টার্ন রিফাইনারি
প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২:১৫ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসিতে (ইআরএল) উৎপাদন বন্ধ প্রায় ১৭ দিন। মূলত অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) সংকটে উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে আগামী ৭ মে ফের উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মালিকানাধীন একমাত্র পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি ইআরএল। ইআরএলে পরিশোধনে ব্যবহৃত শতভাগ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ জিটুজি পদ্ধতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসব অপরিশোধিত তেল আমদানি করে।
আমদানি করা এসব অপরিশোধিত তেল শতভাগ পরিবহন করে সরকারি পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)। বিএসসি এসব তেল পরিবহনের জন্য বর্তমানে আমেরিকান প্রতিষ্ঠান নর্ভিক এনার্জি থেকে চার্টারে জাহাজ ভাড়া নেয়।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিএসসির চার্টারার প্রতিষ্ঠান আমেরিকান কোম্পানি হওয়ায় মার্চ মাসে দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিবহনে ঝুঁকি তৈরি হয়। এর মধ্যে সৌদি আরবের রাস তানুরা থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল লোড করে হরমুজ প্রণালিতে হামলার আশঙ্কায় গত ৫ এপ্রিল থেকে আটকা পড়ে নর্ডিক পোলাক্স নামে ট্যাংকার জাহাজ। প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও কখন জাহাজটি বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে তার নিশ্চয়তা এখনো মেলেনি।
পাশাপাশি অন্য পার্সেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবল দানা বন্দর থেকে ২১-২২ মার্চ, পরবর্তীসময়ে সূচি পাল্টে ৩১ মার্চ এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল লোড নেওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই যুদ্ধ এলাকায় মালিকপক্ষের জাহাজ পাঠানোর অনীহার কারণে ‘ওমেরা গ্যালাক্সি’ নামে ট্যাংকার ভেসেলের যাত্রা বাতিল হয়।
ফলে অপরিশোধিত তেল সংকটে গত ১২ এপ্রিল বিকেল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির মূল প্ল্যান্ট ক্রুড ডিস্টিলেশন ইউনিট (সিডিইউ) পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে সিডিইউনির্ভর অন্য প্ল্যান্টগুলোও বন্ধ হয়ে যায়। চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে যা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। এর মধ্যে সরকার স্পট মার্কেট থেকে বেশি দামে পরিশোধিত জ্বালানি কিনে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হয় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। অবশিষ্ট ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস থেকে পাওয়া যায়।
আবা/এসআর/২৬
