এনআইডিতে এসএসসি সনদ বাধ্যতামূলক করল নির্বাচন কমিশন
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২০ | অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন থেকে নতুন ভোটার নিবন্ধনের সময় শিক্ষিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এসএসসি বা সমমানের সনদ ডাটাবেজে স্ক্যান করে বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত করতে হবে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও তথ্য গোপন করেন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় সনদ যুক্ত করা হয় না। ফলে পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের সময় সঠিক তথ্য যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই সমস্যা দূর করতেই নিবন্ধনের সময়ই প্রয়োজনীয় নথি সংযুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভোটার নিবন্ধনের সময় ফরম-২, ফরম-৩, প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ তথ্য ফরম, জন্মসনদ, এসএসসি বা সমমানের সনদ, পাসপোর্ট (যদি থাকে) এবং আবেদনকারীর স্বাক্ষরযুক্ত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ করে জন্মতারিখ যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এসব সনদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা গেছে, আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক বা তার বেশি হলেও অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসগুলো এসএসসি বা সমমানের সনদ ডাটাবেজে সংযুক্ত করছে না। এতে পরবর্তীতে তথ্য সংশোধনের সময় জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যায় পড়ছেন কর্মকর্তারা। কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অস্বীকার করায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন তিনটি নির্দেশনা দিয়েছে। নিবন্ধনের সময় আবেদনকারী মাধ্যমিক বা তার ঊর্ধ্বে পাস হলে এসএসসি বা সমমানের সনদ (জন্মতারিখসহ) অবশ্যই ডাটাবেজে সংযুক্ত করতে হবে।
এছাড়া আবেদনকারী উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী হলেও তার এসএসসি বা সমমানের সনদ বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে হবে।
একই সঙ্গে সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র মুদ্রিত আকারে সংরক্ষণ করতে হবে।
পাশাপাশি সিনিয়র জেলা, জেলা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিস পরিদর্শন এবং নমুনাভিত্তিক তদারকির মাধ্যমে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
