ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করতে চায় না এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্ম ব্যবহারের পক্ষেও নয়। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতেও বিএনপি এ ধরনের রাজনীতি করেনি।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে বৌদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দেশসহ বিশ্বের সব বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের প্রতিটি ধর্মই মানুষকে কল্যাণ ও নৈতিকতার পথে পরিচালিত করে। তিনি মহামতি গৌতম বুদ্ধ-এর পঞ্চশীল নীতির কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রাণী হত্যা, চুরি, ব্যভিচার, মিথ্যা বলা ও মাদক গ্রহণ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা মানবজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি অহিংসা ও সব প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শন বৌদ্ধ ধর্মের মূল বার্তা।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইন অনুসরণ করলে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান স্বাধীনভাবে পালন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে—এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা সবার”—এটাই সরকারের নীতি।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্ম বা বিশ্বাসের ভিত্তিতে কোনো বিভাজন ছিল না। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবাই একসঙ্গে দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। তাই স্বাধীন বাংলাদেশ সবার।
সরকারের রাজনৈতিক দর্শন হিসেবে ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দর্শনই দেশের সব ধর্ম-বর্ণ ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে পারে। তিনি সবাইকে নিজেদের সংখ্যালঘু মনে না করার আহ্বান জানান এবং বলেন, রাষ্ট্র সবার।
শেষে প্রধানমন্ত্রী আবারও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বৌদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানান এবং দিনটি সবার জন্য আনন্দময় হোক—এই কামনা করেন।
