১১ বছর পর আসছে নবম পে-স্কেল, প্রথম ধাপেই চমক

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:১৬ | অনলাইন সংস্করণ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে তিনটি বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রথম ধাপেই মূল বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে, গত ২১ এপ্রিল জাতীয় বেতন কমিশন, বিচার বিভাগীয় সেবা বেতন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিশনের সুপারিশ প্রণয়নে কমিটি পুনর্গঠন করে সরকার। পরে কমিটি সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুপারিশ জমা দিয়েছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়।

সূত্র জানায়, আর্থিক চাপ বিবেচনায় রেখে নবম পে-স্কেল একাধিক ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন মিললে ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করা হবে।

প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, পরবর্তী ধাপগুলোতে চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য ভাতা বাড়ানো হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকেই।

সর্বশেষ অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর ১১ বছর পার হলেও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন করে বেতন কমিশন গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার, যা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সুপারিশ জমা দেয়।

সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ধরা হয়েছে ১:৮।

১৯৭৩ সালের প্রথম বেতন কমিশনে এই অনুপাত ছিল ১:১৫ দশমিক ৪, যা ২০১৫ সালের অষ্টম পে-স্কেলে কমে দাঁড়ায় ১:৯ দশমিক ৪। নতুন প্রস্তাবে এই ব্যবধান আরও কমানো হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা ভাতাসহ প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকায় দাঁড়ায়। নতুন কাঠামোতে মূল বেতন ২০ হাজার টাকা হলে ভাতাসহ মোট আয় বেড়ে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকায় পৌঁছাতে পারে।

১৯তম থেকে ১ম গ্রেড পর্যন্ত সব স্তরেই ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। তবে ভারসাম্য বজায় রাখতে এ বৃদ্ধি তুলনামূলক সীমিত রাখা হতে পারে। যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকি ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধায়ও সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে ৫ম গ্রেড ও তদূর্ধ্বদের গাড়ি সুবিধা নগদায়নের ভাতা এই হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত ভাতা বৃদ্ধির হার তুলনামূলক কম দেখা যেতে পারে।

এছাড়া বর্তমানে চালু থাকা ১০ শতাংশ ও ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতাকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।