গুম-খুনের বেদনা জানি, শহীদদের স্বপ্ন রক্ষা করব: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২১ | অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, গুম ও নির্বাসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবেগঘন কণ্ঠে শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

তিনি বলেন, গুম হওয়া মানুষ আর নিখোঁজ স্বজনদের যে অসহনীয় বেদনা, তা তিনি নিজের জীবনে উপলব্ধি করেছেন। শহীদদের রক্ত ও জনগণের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক সাফল্য কোনোভাবেই নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

নিজ পরিবারের কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সাড়ে নয় বছরের নির্বাসন ও বিদেশের কারাবাস তাকে জীবনের কঠিন বাস্তবতা শিখিয়েছে।

নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলী-এর পরিবারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অনেক সন্তান আজও বাবার অপেক্ষায় দিন গুনছে। তাদের সেই অশ্রুর মর্যাদা দিতে হলে এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে হবে, যেখানে আর কেউ গুম হবে না এবং কারও অধিকার হরণ করা হবে না।

তিনি বলেন, ২০২৬ সালের নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে যারা লড়াই করেছেন, তারাই প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা। এই সংজ্ঞা এখন আইনে নির্ধারিত। এ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক জাতির জন্য অসম্মানজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন ছিল দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক সংগ্রামেরই ধারাবাহিকতা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশের নির্বাচন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।

সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন করা যায় না। বড় ধরনের সংস্কারের জন্য জনগণের সরাসরি মতামত প্রয়োজন। এ কারণে গণভোটের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া সংবিধান সংস্কারের যেকোনো উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সংসদকে পাশ কাটিয়ে ভিন্ন পথে সংস্কারের চেষ্টা দেশের আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সংসদকে অবমূল্যায়ন করা উচিত নয়। সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়াই যথাযথ পথ।

বর্তমান রাজনৈতিক ও আইনি অচলাবস্থা দূর করতে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী সংবিধান প্রণয়ন জরুরি।

বক্তব্যের শেষদিকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় নিজের দলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে রাষ্ট্র সংস্কারে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাকস্বাধীনতার অপব্যবহার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।