জুলাই জাদুঘর নিয়ে অপপ্রচার, সত্যতা তুলে ধরল কর্তৃপক্ষ

প্রকাশ : ০২ মে ২০২৬, ১৫:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নির্মাণ ব্যয় ও জনবল নিয়োগ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জাদুঘরে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।

নিয়োগ প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, যে সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটি কোনো নিয়োগ পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারের দৃশ্য নয়। বরং শহীদ পরিবার ও আহতদের কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করতে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এখনও কাউকে পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়নি এবং ভবিষ্যতে সরকারি বিধি মেনে উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ দেওয়া হবে।

নিয়োগে অনিয়ম বা বাণিজ্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানানো হয়, অভিযুক্ত কর্মচারী নিয়োগ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নন। তবুও বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

আপ্যায়ন খাতে ছয় মাসে ১ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয়ের যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ বানোয়াট বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৮ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক, কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের আপ্যায়নে দৈনিক গড় খরচ প্রায় ১২ হাজার ২৩৮ টাকা।

টিনের ঘেরা নির্মাণে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের অভিযোগের বিষয়ে জানানো হয়, এই অর্থ জাদুঘর কর্তৃপক্ষ ব্যয় করেনি। এটি গণপূর্ত অধিদপ্তর-এর অনুকূলে বরাদ্দকৃত মোট অর্থের অংশ, যা তাদের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জাতীয় জাদুঘর কেবল প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঢাকার শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই প্রকল্পে অবকাঠামো নির্মাণে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ৯৮ কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ১৯টি বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনায় ৬২টি তথ্যচিত্র নির্মাণে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং ভাস্কর্য, গ্যালারি সজ্জা, প্রতীকী কবরস্থান, আয়নাঘর ও অন্যান্য কাজে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা প্রকল্পের পরিধি অনুযায়ী যৌক্তিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে জাদুঘরটি উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত এবং প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই এটি উদ্বোধন করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

জাতীয় জাদুঘরের পক্ষে জনশিক্ষা বিভাগের কীপার আসমা ফেরদৌসি স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে যাচাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।