শাপলা চত্বর ঘটনায় ২ সাংবাদিকের নামে তথ্য গোপনের অভিযোগ
প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ১৪:৩৮ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুর তথ্য আড়াল করতে সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ওই ঘটনার তথ্য পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল এবং এতে ওই দুই সাংবাদিকের সম্পৃক্ততা ছিল।
তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় ইন্টারনেট বন্ধ করা, দুটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপে যারা জড়িত ছিলেন, তারাও মামলার আসামি হবেন।
আগামী ১৪ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দেন। প্যানেলের নেতৃত্ব দেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অপর সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এদিন ট্রাইব্যুনালে সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের আবেদন জানায় প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলাকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন দীপু মনি। তিনি ঘটনাকে আন্তর্জাতিকভাবে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে হেফাজতের সমাবেশকে উসকানিমূলক হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের হাজির করার নির্দেশ দেন এবং পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৪ মে তারিখ নির্ধারণ করেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন ছয়জন আসামি। তারা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপমহাপরিদর্শক মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা শাহরিয়ার কবির এবং সাবেক উপমহাপরিদর্শক আবদুল জলিল মণ্ডল।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, যার ভিত্তিতে মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
