রামিসা হত্যা: ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন চাইলেন আইনমন্ত্রী

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১১:৪৬ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) তিনি এ নির্দেশ দেন। আইনমন্ত্রী বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বুধবার (২০ মে) বিকেলে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা।

ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

এর আগে, মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে পল্লবীর একটি ভবনের পাশের ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বাথরুম থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার শিশুটিকে কৌশলে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যান। পরে বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। এতে জ্ঞান হারায় রামিসা।

এ সময় শিশুটির মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। দুই হাতও আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। পরে মরদেহ খাটের নিচে রাখা হয় এবং বিচ্ছিন্ন মাথা একটি বালতিতে রাখা হয়।

জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় সোহেল রানার স্ত্রী একই কক্ষে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। ঘটনার আগে তিনি মাদক সেবন করেছিলেন বলেও স্বীকার করেন।

মামলার তথ্যমতে, রামিসা রাজধানীর একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা মরদেহ দেখতে পান।

ঘটনার পর প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে আটক করে পুলিশ। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।