আজ আন্তর্জাতিক চা দিবস
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ১৩:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

আজ ২১ মে, আন্তর্জাতিক চা দিবস। সকালবেলার ঘুম ভাঙা, কর্মব্যস্ত দিনের ক্লান্তি দূর করা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে আড্ডা—সব ক্ষেত্রেই এক কাপ চা বাঙালির জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। কবীর সুমনের জনপ্রিয় গানের সেই পঙ্ক্তি—‘এক কাপ চায়ে আমি তোমাকে চাই’—আজও চায়ের প্রতি মানুষের আবেগের কথাই মনে করিয়ে দেয়।
বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কোটির বেশি কাপ চা পান করা হয়।
বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ২৫ হাজার কাপ চা পান করেন মানুষ। এই বিপুল চাহিদার পেছনে রয়েছে লাখো চা-শ্রমিকের নিরলস পরিশ্রম।
২০০৫ সালে চা উৎপাদনকারী কয়েকটি দেশ প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক চা দিবস পালন শুরু করে। এসব দেশের মধ্যে ছিল শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, কেনিয়া, মালয়েশিয়া ও উগান্ডা। পরে ২০১৯ সালে ২১ মে বিশ্ব চা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একই বছরের ২১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ দিবসটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এরপর ২০২০ সালের ২১ মে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ্ব চা দিবস পালন করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চা-পানকারীর সংখ্যাও আরও বাড়বে। ভারত ও চীনে চায়ের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। বিশ্বের মোট চা-পানের বড় একটি অংশ এই দুই দেশের মানুষের মাধ্যমেই হয়ে থাকে।
চা নিয়ে যুগে যুগে নানা গবেষণা হয়েছে। একসময় গরম পানির সঙ্গে বিভিন্ন গুল্ম ও পাতা মিশিয়ে পান করা হলেও, বর্তমানে চায়ের সবচেয়ে পরিচিত রূপ হলো গরম পানিতে চা-পাতা মিশিয়ে পান করা। এই পাতা মূলত ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস নামের উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়।
ইতিহাসবিদদের মতে, খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতাব্দীতে এশিয়ায় গরম চা পান শুরু হয়। তবে ষোড়শ শতাব্দীর আগে ইউরোপে চায়ের প্রচলন হয়নি। পরে ১৬০০ সালের দিকে ইংল্যান্ডে চায়ের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে।
ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতীয় উপমহাদেশে চা উৎপাদনের বিস্তার ঘটে এবং ধীরে ধীরে এটি বিশ্বজুড়ে একটি বড় শিল্পখাতে পরিণত হয়।
