সদরঘাটে বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়, প্রস্তুত ১৭৫ লঞ্চ

প্রকাশ : ২৫ মে ২০২৬, ১১:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি ছুটি আজ থেকে শুরু হয়েছে। ছুটির প্রথম দিনেই রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের ভিড়। প্রিয়জনদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে সকাল থেকেই টার্মিনালে ভিড় করতে থাকেন দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে।

রোববার সকালে সদরঘাট টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনালের বিভিন্ন প্রবেশপথে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। বিশেষ করে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও চাঁদপুরগামী লঞ্চের পন্টুনগুলোতে ভিড় তুলনামূলক বেশি। মাঝে মধ্যে লঞ্চের সাইরেন, মাইকিং আর যাত্রীদের ডাকাডাকিতে পুরো এলাকা সরগরম হয়ে ওঠে।

ঘাট জুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহলও চোখে পড়ার মতো। কয়েকটি পন্টুন এলাকায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি অবস্থান করতে দেখা গেছে নৌ-পুলিশ ও আনসার সদস্যদেরও।

যাত্রীরা বলছেন, আজ ছুটি শুরু হওয়ায় সবাই একসঙ্গে বাড়ি ফিরছে। সকালে কিছুটা স্বস্তিতে লঞ্চে উঠতে পারলেও দুপুরের পর ভিড় আরও বাড়তে পারে। নদীপথে যাত্রা তুলনামূলক আরামদায়ক। তবে অতিরিক্ত যাত্রী আর ভাড়ার বিষয়টা নিয়ে সবসময় ভয় থাকে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী যাতায়াত করতে পারেন। সেই চাপ সামাল দিতে প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত বিশেষ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ–এর ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, আজ থেকে যাত্রীর চাপ বাড়তে শুরু করেছে। বিকেল ও রাতে চাপ আরও বাড়বে। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করতে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি থাকবে। ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত সদরঘাট ও আশপাশের নদীপথে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। র‍্যাব, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, ডিএমপি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে।

যাত্রীদের প্রত্যাশা- নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও নির্ধারিত ভাড়া নিশ্চিত করা গেলে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে।