আত্মত্যাগে মহিমান্বিত পবিত্র ঈদুল আজহা আজ

প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬, ০৫:৪০ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্য, ত্যাগ আর উৎসর্গের আদর্শে মহিমান্বিত পবিত্র ঈদুল আজহা আজ। আনন্দ ও আত্মত্যাগের গভীর বার্তাকে সামনে রেখে মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনের অন্যতম প্রধান এ উৎসব সারা দেশে উদযাপিত হবে।

ঈদুল আযহা হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তার পুত্র হযরত ইসমাইলের (আ.) সঙ্গে সম্পর্কিত। হযরত ইব্রাহিম (আ.) স্বপ্নে আদিষ্ট হয়ে পুত্র ইসমাইলকে আল্লাহর উদ্দেশে কোরবানি করতে গিয়েছিলেন। আল্লাহর পক্ষ থেকে এই আদেশ ছিল হযরত ইব্রাহিমের জন্য পরীক্ষা। তিনি পুত্রকে আল্লাহর নির্দেশে জবাই করার সব প্রস্তুতি নিয়ে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

ইসলামে বর্ণিত আছে, নিজের চোখ বেঁধে পুত্র ইসমাইলকে ভেবে যখন জবেহ সম্পন্ন করেন তখন চোখ খুলে দেখেন ইসমাইলের পরিবর্তে পশু কোরবানি হয়েছে, যা এসেছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনার স্মৃতি ধারণ করেই হযরত ইব্রাহিমের (আ.) সুন্নত হিসেবে পশু জবাইয়ের মধ্য দিয়ে কোরবানির বিধান এসেছে ইসলামি শরিয়তে। সেই মোতাবেক প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। ইসলামে কোরবানি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

ঈদ মানেই পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনের নতুন করে উষ্ণতা খুঁজে পাওয়া। দূরত্ব, ক্লান্তি ও নানা বাধা অতিক্রম করে মানুষ পৌঁছে যায় প্রিয়জনের কাছে। শহর-গ্রাম মিলিয়ে তৈরি হয় এক অভিন্ন উৎসবের আবহ।

ঈদের সকালে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাই নতুন বা পরিষ্কার পোশাকে ঈদগাহ কিংবা মসজিদে এক কাতারে দাঁড়িয়ে আদায় করেন ঈদের নামাজ। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বার্তা।

এরপর শুরু হয় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি ওয়াজিব। কোরবানির মাংস তিন ভাগে ভাগ করে আত্মীয়স্বজন, দরিদ্র ও নিজের পরিবারের মধ্যে বণ্টনের মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও ন্যায়বোধ প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেওয়া হয়।

 

আবা/এসআর/২৬