স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ৩ হাজার কোটি টাকা চায় ইসি
প্রকাশ : ০৯ জুন ২০২৬, ১৪:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে ইসির পক্ষ থেকে এই বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে, যা গেল সংসদ নির্রাচনের আগে বরাদ্দ হওয়া অর্থের সমান।
আগামী অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের ভোটের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এরমধ্যে স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা ও ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে।
সোমবার ইসি সচিবালয়ের বাজেট ও অর্থ শাখার কর্মকর্তারা জানান, এবার বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রায় ২,৯০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ে।
চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকারের ভোট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হয়। এ নির্বাচনের আগে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বরাদ্দ আসে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে সোয়া দুই হাজার কোটি টাকার মতো ব্যয় হয়েছে।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “সংসদ নির্বাচনে তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও আটশ’ কোটি টাকার মতো রয়ে রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় কোনো খরচ করা হচ্ছে না, কৃচ্ছ্রতাসাধনও করা হয়েছে। স্থানীয় নির্বাচনেও চাহিদামতো বরাদ্দ থাকবে আশা করি।”
সংসদ নির্বাচনের সমান বরাদ্দ থাকতে পারে বলে আভাস দেন তিনি।
সংসদের চলতি অধিবেশনে ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটি তাদের প্রথম বাজেট।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “ আগামী মাসে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে অগাস্টে তফসিলের প্রস্তুতি নেওয়া যাবে। কোন নির্বাচন আগে হবে, তা নির্ভর করছে (সরকারের সঙ্গে) আলোচনা সাপেক্ষে। অক্টোবর-মার্চ পযন্ত ভোটের উপযুক্ত সময়; এরমধ্যে বছর শেষে বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে। যেহেতু স্থানীয় সরকারের সব স্তরে করতে হবে; বর্ষার সময়টা দেখে তফসিল করতে হবে আমাদের।”
ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (বাজেট ও অর্থ) মো. শামসুল হক ফৌজদার জানান, সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলার ভোট করতে হয়। সেজন্য এ দুই ভোটের ব্যয় বরাদ্দ প্রায় সমান সমান থাকে।
“সাধারণত ইউপিতে দুই হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় ধরা হয়ে থাকে, উপজেলাতেও দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ হয়। সিটি, পৌরসভা ও জেলা পরিষদে তুলনামুলক ব্যয় কম।”
ভোটের ব্যয়ে কখনও অর্থ সঙ্কুলানে ঝামেলা হয় না, যখন যা দরকার সরকার তা বরাদ্দ দেয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের বলেছেন, বাজেটে নির্বাচনের প্রয়োজনীয় বরাদ্দ আসার পরই জুলাই-অগাস্ট থেকে সিদ্ধান নেওয়া হবে, কোন নির্বাচন কবে হবে।
