হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে সংসদে পাল্টাপাল্টি বিতর্ক

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ০০:০১ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

মদ, সিগারেটের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিরোধীদল মিছিল করেছে- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বক্তব্যকে এনসিপির সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল হান্নান মাসউদ অসত্য আখ্যা দেওয়ায় সংসদে বিতর্ক হয়েছে। সরকারের সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক অর্জনের আলোচনার সমান্তরালে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট এবং মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মাঝে সৃষ্টি হয় তীব্র বাগবিতণ্ডা। 

 

এদিন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনের একপর্যায়ে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্য দেন হান্নান মাসুদ। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বিএনপি সরকারের একটি আকাঙ্ক্ষার দলিল, কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তব পরিকল্পনার কোনো দলিল নয়। কারণ, বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটি পূরণ করা অসম্ভব। এছাড়া বাজেটে যে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ও রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, সেটিও বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল। এতে বাজেটে প্রায় ৪ লাখ কোটি টাকা ঘাটতি আসতে পারে। এই ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভর করছে, অথচ ব্যাংক খাত বর্তমানে চরম সংকটে।

 

এ সময় বাজেটের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পরও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ফ্যাসিবাদী আচরণের অভিযোগ তুলে সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। হান্নান মাসুদ বলেন, ‘ভারতের দালালি যেভাবে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার করত, ঠিক একইভাবে আমাদের এই সংসদের বিভিন্ন মন্ত্রিরা একই ধরনের ভারতীয় ভাষায় কথা বলে। ফ্যাসিবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেভাবে বক্তব্য দিতেন, আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সেই একইভাবে বক্তব্য দিচ্ছেন যে, মাননীয় স্পিকার সকল সীমান্ত হত্যাকে সীমান্ত হত্যা বলা যাবে না। আমরা বলছি প্রত্যেকটি সীমান্ত হত্যাই হত্যা, প্রত্যেকটা সীমান্ত হত্যাই আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।’

প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার পরদিনই চাল-ডালসহ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে অথচ সরকার বলছে মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। এই বাজেটের ওপর যে জনগণের আস্থা নেই, ব্যবসায়ীদের আস্থা নেই এর প্রমাণ বাজেটে খাদ্যপণ্যের দাম কমানোর ঠিক একদিন পরই খুচরা বাজারে চাল-ডালের দাম বেড়ে যাওয়া। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন ভাষণে অসত্য তথ্য দেয়ার অভিযোগ করলে সংসদে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।

এরপর নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদীন ফারুক দাঁড়িয়ে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সংসদে অসত্য তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হান্নান মাসুদের এ সংক্রান্ত বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান। একই সময় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাঁড়িয়ে হান্নান মাসুদের বক্তব্যের কোন অংশ অসত্য সেটি স্পষ্ট করতে বলেন। সেই সঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের আছে। অবশ্যই উনাকে আমরা সম্মান করি, তিনি জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়ার সন্তান, সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তার মানে এই না যে তাকে নিয়ে কোনো কথা বলা যাবে না, তার কোনো বক্তব্যের সমালোচনা করা যাবে না। আমরা তো গণতন্ত্রের দিকে যেতে চাচ্ছি, আমরা কোনো ফ্যাসিবাদের দিকে যেতে চাচ্ছি না।’ এ সময় ডেপুটি স্পিকারকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে দেয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

 

আবা/এসআর/২৬