তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ভারতকে কড়া জবাব দিল চীন
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১৯:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন। বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছে বেইজিং।
ভারতের উদ্বেগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সাংবাদিকদের বলেন, 'আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং এটি তৃতীয় পক্ষের প্রভাবমুক্ত থাকা উচিত।'
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, তিস্তা অববাহিকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থিত, আর এটিই ঢাকা-বেইজিং যৌথ উদ্যোগ নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগের মূল কারণ।
চীনের ভাষ্য, তিস্তা প্রকল্পটি বাংলাদেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।
গুও জিয়াকুন বলেন, তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার একটি জীবিকা-কেন্দ্রিক প্রকল্প, যাকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। চীন এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন কৌশলের সমন্বয় আরও জোরদার করতে এবং বাণিজ্য, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণে চীন প্রস্তুত।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা প্রথমবারের মতো এই প্রকল্পটির ওপর একটি কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ পরিচালনা করবেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, 'উভয় পক্ষই এ বিষয়ে একমত হয়েছে, যা গতবার এমন পর্যায়ে ছিল না। চীন জানিয়েছে যে তারা এই প্রকল্পে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে, কারণ সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে এর যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়েছে।'
বাংলাদেশ ও চীন সম্প্রতি তিস্তাসহ দেশের নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এ কারণে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে যেকোনো অগ্রগতি ভারতের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানায় এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের উদ্বেগের অন্যতম কারণ, তিস্তা নদী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেনস নেক) নিকটবর্তী। নয়াদিল্লির আশঙ্কা, ওই এলাকায় চীনের উপস্থিতি বাড়লে ভারতের নিরাপত্তা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ করিডরের কৌশলগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
