খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব, সালিশ শেষে বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আদাবরের কাচা বাজার এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে সালিশ বৈঠক শেষে আবুল বাসার বাদশা (৩০) নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় একই ইউনিটের বিএনপি সভাপতি মো. সাদ্দাম (৩৫) গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ বলছে, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

বুধবার (১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে আদাবাদ থানার নবোদয় কাচাবাজার এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে রাত সাড়ে ১১টায় মারা যান তিনি।

নিহত আবুল বাসার বাদশা ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল থানার গফুর মিয়ার ছেলে। বর্তমানে আদাবর থানার নবোদয় হাউজিংয়ের বি ব্লকে থাকতেন। তিনি নবোদয় ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা।

তিনি বলেন, গত ২৯ তারিখ ব্রাজিল বনাম জাপান খেলাকে কেন্দ্র করে তাদের হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার এক দিন পর আবারও এই বিষয়টি নিয়ে মারামারি হয়। পরবর্তীতে আজ রাত ৮টার দিকে নবোদয় বাজারের পাশে একটি সালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকের এক পর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আবুল বাশার বাদশা ও সাদ্দাম নামে দুই বিএনপি নেতাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে দুইজনকেই শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আবুল বাসার বাদশাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আমাদের পুলিশের একাধিক টিম ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন নবোদয় হাউজিং এলাকায় ব্রাজিল ও জাপান ফুটবল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক বাঁশি বাজিয়ে হইচই করেন। এ সময় আদাবর থানা বিএনপির সদস্য হাবিব নবোদয় বাজারের ব্যবসায়ী মজনুর ছেলে নীরবকে চড়-থাপ্পড় মারেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরদিন মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর একই স্থানে নীরবের ভাই রিপন ও ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন মুখোমুখি হলে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে নবোদয় বাজারে ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য একটি বিচার-সালিশ বসে। সালিশ শেষে মাসুম, রবিন, নাহিদ, রিপন, নিরব, পারভেজ, মজনু, সুমন ও শহিদসহ কয়েকজন ধারালো ছুরি ও চাপাতি নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তারা হাবিবের পক্ষের লোকজনসহ নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সভাপতি সাদ্দাম ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বাদশাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।

হামলার পর উপস্থিত লোকজন আহত দুই নেতাকে উদ্ধার করে দ্রুত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে বাদশার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং সেখানে তার মৃত্যু হয়। আহত সাদ্দাম বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন।

 

 

আবা/এসআর/২৬