প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের বেতন-মর্যাদা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ২২:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের বেতন ও পেশাগত মর্যাদা পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (৮ জুলাই) সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাতের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার সরকারের সময় শুধু বিল্ডিং হয়েছে কিন্তু হিউম্যান রিসোর্সের কোনও উন্নতি হয়নি। আমরা যদি আমাদের প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি শিক্ষকদেরকে সঠিকভাবে ট্রেনিং দিতে না পারি, শুধু ট্রেনিং নয়, ট্রেনিংয়ের সঙ্গে তাদের সম্মানি যদি বৃদ্ধি করতে না পারি, তাহলে আমরা তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু প্রত্যাশা করতে পারি না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শিক্ষকদের সেকেন্ডারি এবং প্রাইমারি পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। একই সাথে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা শিক্ষকদের সন্মানি বাড়ানো প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করি। এ কাজটি অবশ্যই করবো ইনশাআল্লাহ।’

সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত জানতে চান, বর্তমানে প্রাথমিকের শিক্ষকরা ১১ হাজার ও মাধ্যমিকের শিক্ষকরা ১৬ হাজার টাকা মূল বেতন পাচ্ছেন। শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা আছে কি না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে মোট জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি এগিয়ে যেতে পারি, তবে পাঁচ বছর শেষে আমরা শিক্ষা বাজেট জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করতে চাই।

বিগত আমলের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী আমলে শুধু ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু মানবসম্পদের কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমি পুরোপুরি একমত যে, আমরা যদি শিক্ষকদের সঠিকভাবে প্রশিক্ষণ দিতে না পারি, তবে তাদের কাছ থেকে মানসম্মত ফলাফলের আশা করতে পারি না।

'অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখনো তাড়াহুড়ো করে ক্লাস শেষ করে দ্বিতীয় কোনো চাকরি বা কৃষিকাজে যান। কারণ তাদের বর্তমান বেতন দিয়ে পরিবার চালানো কঠিন। আমরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি দেখেছি,' যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যেন দ্বিতীয় কোনো পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য না হন এবং নিজেদের সময় ও মেধা পুরোপুরি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে দিতে পারেন, সেজন্য আমরা মনে করি তাদের সম্মানী বাড়ানো প্রয়োজন। আমরা পর্যায়ক্রমে সেটি করব।

 

আবা/এসআর/২৬