ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একগুচ্ছ আইন-বিধি সুপারিশ চূড়ান্ত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একগুচ্ছ আইন-বিধি সুপারিশ চূড়ান্ত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেনা মোতায়েনের আইনি সুযোগ রাখতে সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংশোধনের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিক এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না—এমন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের সভায় এসব সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়।

আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলার পরিষদের যে আইনগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা রয়েছে।

তিনি জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। ঋণখেলাপী ও জামিনদাররাও প্রার্থী হিসাবে অযোগ্য হবেন। এছাড়া ইউটিলিটি বিল বকেয়া থাকলেও নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে অযোগ্য হবেন।

ইসি সচিব জানান, এসকল প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে কমিশন। দ্রুত আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

ইসি সচিব বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা- সবগুলোর আইনে এটা সেভাবে নেই। কাজেই আমরা মনে করি যে, সবগুলোর আইনে এটা যুক্ত করা উচিত। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি পারবেন না, এই বিষয়টা কমিশন মনে করে যে না, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হন।’

তিনি বলেন, ‘ঋণখেলাপি বলে যে বিষয়টা আছে, এখানে দুটি ক্ষেত্র- একটা হচ্ছে বন্ধকদাতা এবং জামিনদার তো যিনি ব্যক্তিগতভাবে বন্ধকদাতা তিনি তো আছেনই। কিন্তু যারা তাদের জামিনদার হয়েছেন, তাদেরকেও ঋণখেলাপি হিসেবে প্রার্থী হিসাবে অযোগ্য করার একটা প্রস্তাবনা আমরা নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছি।’

সচিব বলেন, ‘পাশাপাশি বিলখেলাপি, যেমন ধরুন- আপনার ইলেকট্রিসিটি বিল, ভূমি কর, ওয়াসা— এ ধরনের যে সমস্ত সেবা প্রদানকারী সংস্থা, সেখানে যদি কোনো বিলখেলাপি থাকে, সেটা ব্যক্তিগত হতে পারে বা প্রাতিষ্ঠানিক হতে পারে। ধরুন আমি একটা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার কিন্তু আমার প্রতিষ্ঠানটাই বিলখেলাপি করেছে, সেক্ষেত্রে এটা অযোগ্যতা হিসেবে আসবে।’

তিনি জানান, ‘লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করা যাবে না। আবার দ্বৈত নাগরিকত্বধারী যারা, তাদেরকেও আমরা মনে করি, কমিশন মনে করে যে, তাদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সংবিধানে এটার একটা সীমাবদ্ধতা দেওয়া আছে।’

ইসি সচিব বলেন, ‘আইন সংশোধনের বিষয়গুলো আমরা এখন স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রস্তাব পাঠাবো, তারা উপযুক্ত মনে করলে ব্যবস্থা নেবেন।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন কি আজই চূড়ান্ত করছেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত করার এখতিয়ার রাখি না, আমরা আইনের কিছু প্রস্তাবনা বা সুপারিশ করছি। চূড়ান্ত করার দায়িত্ব তো স্থানীয় সরকার বিভাগ বা সংসদের।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কি পরিবর্তন আসছে- এ ব্যাপারে এই ইসি কর্মকর্তা জানান, সবগুলোর ভেতরে সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা।

সেনা মোতায়েনে,স্থানীয় সরকার,ইসি
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত