১১৫ দিন পর দেশে ফিরলেন বাংলার জয়যাত্রার ১৭ নাবিক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ২৩:৩১ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রায় চার মাস হরমুজ প্রণালিতে অবরুদ্ধ থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ এমভি বাংলার জয়যাত্রার ১৭ বাংলাদেশি নাবিক দেশে ফিরেছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকাল ৫টা ৪২ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা। বাকি ১৪ নাবিক আরও কিছু দিন পর মালয়েশিয়া হয়ে দেশে ফিরবেন। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়েছিল বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। ৩ মাস ২৫ দিন পর গত ২৩ জুন রাতে হরমুজ প্রণালি পার হয় জাহাজটি। ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম আজ দেশে ফিরে সেই অবরুদ্ধ দশার কথা তুলে ধরেছেন।
সন্ধ্যায় ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন শফিকুল ইসলাম। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে রওনা হয়ে আজ বিকেলে তাঁদের বহনকারী উড়োজাহাজটি দেশে পৌঁছায়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় জীবন পেলাম…দেশবাসী যাঁরা দোয়া করেছেন, মানসিক সাপোর্ট দিয়েছেন, প্রতিনিয়ত খোঁজখবর নিয়েছেন, সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।’
বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কারণেই রাষ্ট্রীয় সম্পদ নিয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পেরেছেন বলে জানান শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় যখন জাহাজের ওপর দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র যাচ্ছিল এবং পাশে জাহাজ ডুবে যাচ্ছিল, তখন সরকারের পক্ষ থেকে বারবার হোটেলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় তাঁরা জাহাজ ছেড়ে যাননি।
জেবেল আলী বন্দরে অবস্থানকালের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ক্যাপ্টেন শফিকুল বলেন, এক রাতে তাঁদের পাশের বার্থে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। এতে তেলের একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়, যা ছয়টি টাগবোট দিয়েও নেভানো যায়নি। তিনি জানান, ওই ট্যাংকারের ৪০টি ট্যাংকের যেকোনো একটি বিস্ফোরিত হলে তার আগুন তাঁদের জাহাজেও ছড়িয়ে পড়তে পারত।
জাহাজের তৎকালীন কমান্ডিং অফিসার প্রণয় কৃষ্ণ সেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, স্যাটেলাইট নেভিগেশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় সে সময় সম্পূর্ণ ম্যানুয়াল নেভিগেশনের মাধ্যমে জাহাজ চালাতে হয়েছে তাঁদের। এলাকায় মাইন থাকায় সামান্য বিচ্যুতিতেও বিস্ফোরণের ঝুঁকি ছিল।
নাবিকেরা বিমানবন্দরের টার্মিনালে প্রবেশ করলে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানান। বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন নাবিকদের স্বজনেরা। সংবাদ সম্মেলন শেষে তাঁরা বাইরে বের হলে স্বজনেরা তাঁদের জড়িয়ে ধরেন। এ সময় বিমানবন্দরের টার্মিনালের বাইরে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
আবা/এসআর/২৬
