কক্সবাজারের মাতারবাড়ি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:০৬ | অনলাইন সংস্করণ
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ি এলাকায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৯ আগস্ট) বেলা পৌনে ১১টার দিকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে পৌঁছান তিনি। এর আগে সকাল সোয়া ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে তিনি মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হন।
সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, পরিদর্শনের সময় তিনি এসব মেগাপ্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এমন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
মহেশখালীর কর্মসূচি শেষে দুপুর ১২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের উদ্দেশে রওনা দেবেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বাহারছড়ার পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে নতুন ঘর হস্তান্তর করার কথা রয়েছে তার।
এরপর প্রধানমন্ত্রীর ফটিকছড়ি যাওয়ার কথা রয়েছে। দুপুর ২টার দিকে তিনি ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলম বাবুনগর মাদরাসায় আল্লাম শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
পরে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসায় যাবেন। সেখানে তিনি আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন।
হাটহাজারীতে যাওয়ার পথে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হাটহাজারী ডাকবাংলোয় কিছু সময় যাত্রাবিরতি নেয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বিকেল ৫টায় হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য পুনর্বাসন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নতুন ঘর হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।
দিনের কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলের মিলনায়তনে আয়োজিত একটি সাংগঠনিক সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছেন, ঢাকা থেকে মহেশখালী পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে যাবেন। এরপর ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে চট্টগ্রামে যাবেন তিনি। সব কর্মসূচি শেষ করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর মহেশখালী সফরকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কোনো জনসভা বা বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও তার আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা গেছে।রাজনৈতিক সংবাদ
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর মূলত সরকারি ও আনুষ্ঠানিক সফর। তার ভাষ্য, কোনো জনসভা না থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেছেন সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। তিনি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং কক্সবাজারের সঙ্গে মহেশখালীর সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে কক্সবাজার-মহেশখালী সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
মহেশখালীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরে একদিকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মেগাপ্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পরিদর্শন, অন্যদিকে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে। একই দিনে ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীতে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং কবর জিয়ারতের কর্মসূচিও রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আজকের সফরে সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন ও সাংগঠনিক কার্যক্রম তিনটি দিকই গুরুত্ব পাচ্ছে।
