র‍্যাব বদলে হচ্ছে এসআরবি, বদলাবে কি কার্যক্রম?

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে পুলিশের এলিট ফোর্স হিসেবে গঠন করা হয়েছিল র‍্যাব। শুরু থেকেই বাহিনীটির বিরুদ্ধে কথিত ক্রসফায়ারের নামে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ নানা অভিযোগ উঠতে থাকে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এমন অভিযোগে র‍্যাব ও বাহিনীটির কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে র‍্যাবের বিলুপ্তি দাবি করা হয়েছিলো। তবে বিলুপ্তি নয়, এবার ভিন্ন নামে আসছে সংস্থাটি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এসআরবি বা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন গঠনের জন্য প্রস্তাবিত আইনের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে একটি বিশেষায়িত ইউনিট হবে এসআরবি। পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিটটি গঠিত হবে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদেরও নির্ধারিত শর্তে এই ইউনিটের চাকরিতে প্রেষণে নিযুক্ত বা অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা যাবে।

এই ইউনিটের ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পর্কে আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বেআইনি অস্ত্র গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, সাইবার অপরাধ দমন, মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন করবে এই বাহিনী। এছাড়া, নারী শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, অপহরণ, গুম, খুন, সন্ত্রাসী কার্যক্রম দমন, ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি অন্য বাহিনীকে সহায়তা দেবে এসআরবি।

নতুন এই ইউনিটকে ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত করার দায়িত্বও দেয়া হয়েছে আইনের খসড়ায়। শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজের জন্য বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের এখতিয়ার মহাপরিচালকের হাতেই রাখা হয়েছে। বিশ্লেকরা বলছেন, মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। নতুন মোড়কে পুরনো জিনিসই আইনের খসড়ায় দেয়া আছে।

সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, সরকার যে নাম ও পোশাকের পরিবর্তন করতে যাচ্ছে, এটা মূল সমস্যার উপসর্গগত পরিবর্তন। কিন্তু সমস্যাটা থেকেই যাচ্ছে। র‍্যাবের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যখন কোনো অভিযোগ আসবে, সেটি তদন্ত হবে কীভাবে? নিজেরাই যদি নিজেদের বিষয়ে তদন্ত করে, তবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে, বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে।  

এদিকে প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে কাউকে নতুন ইউনিটে সংযুক্ত না করার পরামর্শ মানবাধিক সংগঠক নূর খান লিটনের। তিনি বলেন, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী থেকে কাউকে কোনোভাবেই স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নে যুক্ত করা ঠিক হবে না। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তাকে মাতৃবাহিনীতে ফেরত দিয়ে দেয়া হতো। এরপর আর তাকে স্পর্শও করা যেত না।

আইনটির খসড়ার বিষয়ে মতামত নেয়ার পর কোনো পরিবর্তন দরকার হলে তা এনে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় ভেটিং শেষে এটি বিল আকারে উপস্থাপনের জন্য যাবে জাতীয় সংসদে। এটি পাস হলে এই আইনের ভিত্তিতে র‍্যাব বিলুপ্ত হয়ে গঠিত হবে এসআরবি।