সামিটের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ, আরও তীব্র হতে পারে গ্যাস সংকট
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০০:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাগর উত্তাল থাকায় সামিট এলএনজি টার্মিনালে থাকা কার্গো থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বিভাগ। এমন পরিস্থিতিতে টার্মিনালে থাকা কার্গোটিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল থেকে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ করা হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে এক্সিলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনাল দিয়ে প্রায় ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিটের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের সামগ্রিক সরবরাহ আরও কমে গেছে। এতে আগে থেকেই চলমান গ্যাস সংকট নতুন করে আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ার প্রভাব এরই মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে পড়তে শুরু করেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে ভোগান্তি বাড়ছে। অনেক এলাকায় দিনের বড় একটি সময় চুলা জ্বলছে না। কোথাও আবার এতটাই কম চাপ যে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না।
শুধু আবাসিক গ্রাহক নয়, কম গ্যাসের চাপের কারণে শিল্প-কারখানাতেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির প্রভাব পড়তে পারে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বর্তমানে পিক আওয়ারে গড়ে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে। সামিটের এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাসের ঘাটতি আরও বাড়লে লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বেড়ে যেতে পারে।
ফলে একদিকে তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং, অন্যদিকে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্না ও শিল্প উৎপাদনে ভোগান্তি- দুই সংকটেই পড়তে পারেন গ্রাহকেরা। সামিটের এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও চাপে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
আবা/এসআর/২৬
