নতুন এলএনজি কার্গো পৌঁছানোর পর আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ১৯:০১ | অনলাইন সংস্করণ

তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কার্গো নিয়ে নতুন জাহাজ এসেছে বঙ্গোপসাগরে। এটি এক্সিলারেট টার্মিনালে যুক্ত হয়েছে। টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর আজ শনিবার বিকেলে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট। এতে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। তবে গ্যাস–সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও কিছুদিন লাগতে পারে।
জ্বালানি বিভাগের অনুমোদনে এলএনজি আমদানি তদারক করে পেট্রোবাংলা। আমদানির দায়িত্বে রয়েছে পেট্রোবাংলার কোম্পানি রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। এলএনজি সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত তিনজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বেলা ২টা থেকে ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ শুরু করেছে এক্সিলারেট। রাত ৯টার পর থেকে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে।
এর আগে টানা ২৫ দিনের তীব্র গ্যাস-সংকটের পর ১৫ আগস্ট সামিটের টার্মিনাল পুরোদমে এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে গ্যাস সরবরাহ বাড়ে। তবে এলএনজির নতুন কার্গো না থাকায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমতে কমতে গত বুধবার বিকেলে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আজ জাহাজ আসার পর টার্মিনালে থাকা মজুত থেকে সরবরাহ শুরু করেছে তারা।
দেশে ৯ বছর ধরে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ঘাটতি পূরণে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। মহেশখালীতে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির, অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের।
গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনার পর এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। ১৫ আগস্ট তারা পুরোদমে এলএনজি সরবরাহের জন্য তৈরি হয়। কিন্তু নতুন এলএনজি কার্গো না আসায় পুরোনো মজুত থেকে আংশিক সরবরাহ শুরু করে। এক্সিলারেট বন্ধের পর থেকেই সক্ষমতার বেশি সরবরাহ করে আসছে সামিট। মাঝে এলএনজি না থাকায় সামিট থেকেও সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে।
পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হতো ১০৫ কোটি ঘনফুট, বাকিটা দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন করা হয়। এক মাস ধরেই এলএনজি সরবরাহ হচ্ছে গড়ে সক্ষমতার অর্ধেকের মতো।
আজ দুপুর ১২টায়ও এলএনজি সরবরাহ ছিল ৫৮ কোটি ঘনফুট। বিকেলে এটি বেড়ে ৬৮ কোটি ঘনফুট হয়। এতে মোট গ্যাস সরবরাহ বেড়ে হয়েছে ২৩০ কোটি ঘনফুট। আজ রাতে এলএনজি বেড়ে ৭৫ কোটি ঘনফুট হলে মোট সরবরাহ হবে ২৩৭ কোটি ঘনফুট। আগামী কয়েক দিন একই হারে সরবরাহ করা হতে পারে। এতে গ্যাসের সংকট পুরোপুরি কাটবে না।
এলএনজি আমদানির সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিয়মিত প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে কম দামে এলএনজি কিনতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বেশ কিছু কার্গোর ক্রয়াদেশ দিয়েছিল জ্বালানি বিভাগ। এর মধ্যে আগস্টেই চারটি কার্গো আসার কথা, যার একটিও আসেনি। সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কেনা কার্গোগুলো না আসায় এলএনজি ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে টার্মিনাল তৈরি থাকলেও এলএনজি সরবরাহ করা যাচ্ছে না।
গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে তিন দফায় দরপত্র ডেকে এ মাসের জন্য দুটো এলএনজি কার্গো পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি কার্গো আজ দুপুরে এসেছে। রাতেই এটি থেকে টার্মিনালে এলএনজি খালাস হবে। আরেকটি এলএনজি কার্গো ২৬-২৭ আগস্ট আসার কথা রয়েছে।
