অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০২ | অনলাইন সংস্করণ

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে তার জন্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) শেষ তিন মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত থানাগুলো আবার সচল হয়েছে। স্বাভাবিক হয়েছে অনেক কিছুই। কিন্তু সেসময় পুলিশের লুট হওয়া এক হাজার ৩২৬টি অস্ত্রের এখনো হদিস মেলেনি।
অস্ত্রগুলো কার হাতে, কোথায় আছে কিংবা কোনো অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না সে তথ্যও নেই পুলিশের কাছে। রাষ্ট্রীয় এসব অস্ত্রের অবস্থান অজানা থাকায় তা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি করছে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র সেই নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়িয়েছে।
এবার সেই লুট হওয়া অস্ত্র ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের মধ্যে বিশেষ বাহিনী গঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, 'পুলিশ যেন জনপ্রত্যাশিত, জনবান্ধব বাহিনীতে পরিণত হয়, ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হয়, সেজন্য আমরা অনেক বক্তব্য দিয়েছি। আশা করি, ইনশা আল্লাহ আমরা ক্রমান্বয়ে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে পারবো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি করতে পারবো, আশা করি।'
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'লুঠ হওয়া অস্ত্র পুনর্বাসনের জন্য, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য আমরা বিশেষ একটা ইউনিট গঠন করেছি। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট নিয়ে তারা এরইমধ্যে কাজে নেমে গিয়েছে। আরও জোরদার করার জন্য আমরা পরামর্শ দিয়েছি। এক্ষেত্রে আমরা কিছু পুরস্কার ঘোষণা করেছি। যারা হেভি ওয়েপনস উদ্ধার করার জন্য সহযোগিতা করবে, খবর দেবে—তাদেরকে আমরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করবো।'
কোন ধরনের অস্ত্রের খোঁজ দিলে কত টাকা পুরস্কার হিসেবে দেয়া হবে সে বিষয়েও জানিয়েছেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'যারা পিস্তল, রিভলবার, শটগান—এই জাতীয় অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবে, তাদেরকে আমরা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কৃত করবো।'
তিনি বলেন, 'এর বাইরে সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত হওয়া টিয়ারগ্যাস শেল, অন্যান্য যেগুলো অস্ত্র আছে—যেগুলো লুট হয়েছে, এগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য যারা সহযোগিতা করবে, সংবাদ দেবে, তাদেরকেও আমরা ১০ হাজার, ১৫ হাজার, ২০ হাজার টাকা করে ক্ষেত্রমতে পুরস্কৃত করবো।'
তিনি আরও বলেন, 'আর সারা দেশে আমাদের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, লুণ্ঠিত হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের জন্য অভিযান চলছে। পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ধরার জন্য আমরা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবো এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ইন্টেলিজেন্স সাপোর্ট নিয়ে আমরা সেই কার্যক্রম পরিচালনা করবো।'
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'এটা চালু আছে, এগুলো জোরদার করার জন্য আমরা আজকে আরও পরামর্শ দিয়েছি এবং কিছু কৌশল প্রণয়ন করেছি, যেটা এখানে আমরা বলা ঠিক হবে না। আশা করি ইনশা আল্লাহ আমরা খুব শিগগিরই এই বিষয়গুলোতে সফলকাম হবো।'
জানান, তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে তার নিরাপত্তার স্বার্থেই।
মন্ত্রী বলেন, 'যারা তথ্য দেবে, তাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে। স্বাভাবিকভাবেই, সেটা তো দেখার বিষয়। আমরা পরিচয় গোপন না রাখলে কেউ সেই তথ্য দেবে কেন?'
তিনি বলেন, '৫ আগস্টের পরে লাইসেন্স বাতিল হওয়া অস্ত্রগুলোও অবৈধ। যাদের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, যারা জমা দেয় নাই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে, এগুলো অলরেডি অবৈধ অস্ত্র হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।'
এসময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন— যদি কোনো অবৈধ অস্ত্র বিদেশে পাচার হয়ে যায় সে বিষয়ে করনীয় কী?
উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'এগুলো অন্য দেশে যদি সীমানা পার হয়ে চলে যায়, আমাদের পুলিশ তো অন্য দেশে যেয়ে অপারেশন করতে পারবে না। আমরা যেগুলো দেশে পাবো, সেগুলো উদ্ধার করবো।'
চাঁদাবাজি, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান আরও জোরদার হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'আমরা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি যেসব কর্মকর্তা এই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী এবং মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অগ্রগতি দেখাতে পারবে না, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নেবো। সেই সময়সীমা এখনও শেষ হয়নি।'
