রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস জাপানের

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছে জাপান। একই সঙ্গে সংকটের টেকসই সমাধানে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশনবিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া।

বৈঠকে সাসাকাওয়া বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন।' মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলন বিষয়ে জাপানের বিশেষ দূত হিসেবে তার ভূমিকার কথাও প্রধানমন্ত্রীকে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে সাসাকাওয়া বলেন, 'বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত।' রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপের কথা জানান।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের বিশেষ দূতের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনেও বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।

সাসাকাওয়া জানান, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার সংকট সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন। তবে রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হতে সময় লাগছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নিজের অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আশ্বাস দেন জাপানের বিশেষ দূত।

বৈঠকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপনে সহযোগিতার জন্য সাসাকাওয়াকে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি।

এছাড়া জাপানের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বাংলাদেশ আগ্রহী এবং দেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন তিনি।