জাতীয় নির্বাচনের মতোই গ্রহণযোগ্য হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সিইসি
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:২২ | অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও গ্রহণযোগ্য হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।
তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী যারা যোগ্য হবেন, তারাই নির্বাচন করতে পারবেন। গ্যারান্টি দিতে পারি, কোনো বে-আইনি নির্দেশনা আমরা দেবো না।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগে ‘নির্বাচনি দায়িত্ব পেশাদারত্বের সঙ্গে সম্পাদনের লক্ষ্যে পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ' শীর্ষক আলোচনা সভা শেষে এসব বলেন তিনি।
সিইসি বলেন, আমাদের কমিটমেন্টে কোনো ঘাটতি নেই। নির্বাচন কমিশন থেকে নির্বাচনের সময় পুলিশকে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেওয়া হবে না। আমি গ্যারান্টি দিতে পারি। তারাও (পুলিশ) ওয়াদা করেছেন যে, তারা একটি সুন্দর, ক্রেডিবল নির্বাচন করার জন্য কাজ করবেন।
সিইসি বলেন, আমরা অতি শিগগির স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে আমাদের মূলত পুলিশের সক্ষমতার ওপর নির্ভর করতে হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত হবেন, অথচ আগে নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমের বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেননি, তাদের যথা শিগগির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার জন্য আমি তাকে (আইজিপি) অনুরোধ করেছিলাম। আইজিপি প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যেই এই কার্যক্রম শুরু করেছেন। আজ সেটার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ছিল।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের কমিটমেন্ট হচ্ছে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করা। আমরা জাতীয় নির্বাচন যেভাবে করেছি, যত সুন্দরভাবে করেছি, একইভাবে অন্তত একই মানে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটাও করতে চাই। একটি ক্রেডিবল এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন যেন আমরা করতে পারি, সেজন্য পুলিশের সহায়তা চেয়েছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করার বিষয়ে পূর্ণ কমিটমেন্ট রয়েছে।
এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, আমাদের যেমন সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব আছে সুন্দরভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার, তেমনি তাদেরও (পুলিশ) আমাদের সহায়তা করা এবং সুন্দর একটি নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আইনি দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচনে ফলাফলের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি যে, আমরা পারি। নির্বাচন কমিশনের ওপর যে মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, সেটি আমরা অনেকাংশে পুনরুদ্ধার করতে পেরেছি। সিভিল সার্ভিস থেকে শুরু করে পুলিশ এবং সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর মানুষের যে আস্থার সংকট হয়েছিল, সেটাও পুনরুদ্ধার হয়েছে।
সিইসি বলেন, সব সরকারি সংস্থা, নির্বাচন কমিশন এবং আমাদের প্রশাসন তারা প্রমাণ করেছে যে তারা ডেলিভারি করতে পারে। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনটাও যেন একই মাপকাঠিতে, একই গুণসম্পন্নভাবে করতে পারেন, সেই চেষ্টা তারা করবেন। তারা আমার কাছে সেই ওয়াদা করেছেন।
পুলিশ বাহিনীর কিছু সময়সীমাবদ্ধতা রয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তাদের গাড়ির অভাব রয়েছে। নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়। ২৪ জুলাই-আগস্টের সময়ে অনেক গাড়ি তাদের পুড়ে গেছে। এগুলোর সবগুলোর রিপ্লেসমেন্ট এখনো হয়নি। এসব গাড়ির স্বল্পতার কথাও তারা বলেছেন। এই প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় ২২ কোটি টাকা খরচ হবে। তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফান্ড থেকেই এই টাকা খরচ করতে হবে। তাদের জন্য এটি খুবই কষ্টকর। তারা কিছু ফান্ড চেয়েছেন।
পর্যায়ক্রমে বিজিবি ও আনসারও প্রশিক্ষণ শুরু করবে জানিয়ে সিইসি বলেন, সবাই মিলে আমরা একটি সুন্দর স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারববো, সেই প্রত্যাশা করছি।
এমন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে পুলিশ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিটা নতুন না। আপনারা তো চব্বিশের আগস্টের পরের পরিস্থিতি দেখেছেন। জাতীয় নির্বাচনে যে অবস্থা ছিল, সেই অবস্থার চেয়ে এখনকার অবস্থা খারাপ না; বরং আরও ইমপ্রুভ করেছে। আমার পুলিশের ওপর আস্থা আছে। তারা যদি তাদের কমিটমেন্ট পূরণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকেন, তাহলে তারা পারবেন। আইজিপিও কথা দিয়েছেন যে, তিনি পারবেন।
অতীতে পুলিশের যারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছেন, এবারও তারাই করবেন। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব কি না জানতে চাইলে সিইসি বলেন, আইজিপির প্রচণ্ড রকম আস্থা আছে তার পুলিশ বাহিনীর ওপর। সুতরাং আমার মনে হয়, তিনি সেটাকে প্রোপারলি ইউটিলাইজ করবেন। আমরা যেহেতু মনিটরিং করবো, তেমন একটা অসুবিধা হবে না। অনেক সময় একই রিসোর্স থাকলেও আপনি কীভাবে রিসোর্সকে ব্যবহার করেন, সেটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রোপারলি যদি ব্যবহার করতে পারেন, একই রিসোর্সের মধ্যে অনেক ভালো রেজাল্ট আপনি পেতে পারেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সহিংসতা কমাতে পরিকল্পনা কী- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন তো কংক্রিট প্ল্যান বলার সময় আসেনি। বলার সময়ও আসে না। এটা ইন ডিউ টাইম তারা করবেন। তবে আমরা সিসি ক্যামেরা, বডি-ওর্ন ক্যামেরা থেকে শুরু করে এগুলোর সব ব্যবস্থা করবো। ডিজিটাল মনিটরিং, অনলাইন মনিটরিং এবং গ্রাউন্ড সিচুয়েশন—নির্বাচনের সময় রিয়েল-টাইম মনিটরিং আমরা করবো, যেন আমরা ইমিডিয়েটলি ইন্টারভেন করতে পারি। সেই কাজ আমরা করছি। সেল কাজ করছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল কবে ঘোষণা করা হবে জানতে চাইলে সিইসি বলেন, শিগগিরই দেখতে পাবেন। সবকিছু যখন সমাপ্ত হবে, তফসিল ঘোষণার যখন সময় হবে, তখন ঘোষণা হয়ে যাবে।
স্থানীয় নির্বাচনে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না; কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা যদি অংশগ্রহণ করে, সে ক্ষেত্রে আপনাদের পক্ষ থেকে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেদিন নমিনেশন পেপার সাবমিট করবেন, মনোনয়নপত্র সাবমিট করবেন, সেদিন আইনে যারা যোগ্য হবেন, তারা মনোনয়নপত্র সাবমিট করতে পারবেন। যারা আইনে বাধার কারণে যোগ্য হবেন না, তারা পারবেন না। আইনে সব বলা আছে। যারা যোগ্য হবেন, তাদের মনোনয়ন বৈধ হবে।
