দরপত্র ছাড়া আরও ১৮ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৪৮ | অনলাইন সংস্করণ

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ও মজুদ কমে যাওয়ায় দরপত্র ছাড়া এবার ১৮ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ‘জরুরি গ্যাসের চাহিদা’ পূরণে ফরাসি বহুজাতিক সমন্বিত শক্তি ও পেট্রোলিয়াম কোম্পানি টোটাল এনার্জিস থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যেমে চলতি অর্থবছরের অক্টোবর থেকে জুন পর্যন্ত প্রতিমাসে দুই কার্গো করে মোট ১৮ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে।
সরকারের অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে বুধবার এই এলএনজি ক্রয় প্রস্তাবে সায় মেলে।
অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, বৈঠকে প্রয়োজনে দুই পক্ষের (সরকার ও টোটাল এনার্জিস) সম্মতিতে আরও অতিরিক্ত কার্গো এলএনজি কেনার নীতিগত অনুমোদন হয়েছে। দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটা করতে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকের নীতিগত অনুমোদন লাগে।
এর আগে গত অগাস্টে দরপত্র ছাড়া দুই দফায় ২২ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়। ১৯ অগাস্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সাতটি কোম্পানি থেকে দুই কার্গো করে মোট ১৪টি কার্গো এলএনজি কেনার। তার আগে ৬ অগাস্ট একইভাবে ৮ কার্গো এলএনজি এবং দেশের ‘আপৎকালীন’ এলপিজি চাহিদা পূরণ ও বাজারের 'স্থিতিশীলতা' নিশ্চিত করতে ৫ হাজার টন এলপিজি আমদানিরও সিদ্ধান্ত হয়।
এদিন সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকও হয়। সেখানে সিঙ্গাপুরের ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড থেকে ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টন ডিজেল এবং ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল কেনার প্রস্তাব আসে। এর জন্য সুপারিশকৃত দর ধরা হয়েছে হয়েছে ৪ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা।
সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য এ জ্বালানি কেনা হবে। একই সময়ের জন্য আরও ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং ৪০ হাজার টন জেট ফুয়েল কেনার প্রস্তাবে সায় মেলে। এসব কেনা হবে সিঙ্গাপুরের কোম্পানি ভাইটল এশিয়া থেকে; যার জন্য খরচ ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা।
একই সময়ের জন্য ইউনিপে সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড থেকে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টন ডিজেল কেনার অনুমোদনের প্রস্তাব মিলেছে। এখানে দর ৭৯২ কোটি টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ভাইটল এশিয়া থেকে আরও ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব মেলে। এর জন্য খরচা ধরা হয়েছে ১ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। ৭৫ হাজার থেকে ১ লাখ টন ফার্নেস ওয়েল কেনার প্রস্তাব মেলে; যার সুপারিশকৃত দরদাতা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ট্রাফিগুরা। কেনাকাটায় দর সুপারিশ করা হয়েছে ৮০১ কোটি টাকা।
এসবের প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই প্রস্তাবিত প্রিমিয়াম এবং রেফারেন্স মূল্যের বিষয়ে সুপারিশকৃত দরদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে যে দর ঠিক হবে, তা পরের সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সব জ্বালানিই কেনা হবে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর সময়ের জন্য।
