আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:২১ | অনলাইন সংস্করণ

আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্য বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আসনটি শূন্য হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর (রোববার) এই উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন এবং মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে ২৯ সেপ্টেম্বর।
তিনি আরও বলেন, মনোনয়ন বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কেউ আপিল করতে চাইলে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিন সময় পাবেন। আপিল নিষ্পত্তি করা হবে ৬ অক্টোবর। ৭ অক্টোবর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপর আগামী ২৯ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত একটানা স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ভোটার ও কেন্দ্রের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ইসি সচিব বলেন, 'গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৭ হাজার ২০৩ জন। তবে গত ১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে ৮ হাজার ৩২২ জন নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ায় বর্তমান ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৫ হাজার ৫২৫ জনে।'
তিনি বলেন, পূর্বের নির্বাচনের মতো এবারও ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র এবং ৯৮৯টি ভোটকক্ষ অপরিবর্তিত থাকছে। ভোটগ্রহণের সার্বিক দায়িত্বে থাকবেন ১৮৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৯৮৯ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ১ হাজার ৯৭৮ জন পোলিং অফিসারসহ মোট ৩ হাজার ১৫২ জন কর্মকর্তা।
এবারের উপনির্বাচনে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর, রুহিয়া এবং ভূল্লি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা- এই তিনজন সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানান তিনি।
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, গত নির্বাচনে এই আসনে ৩৩টি দেশ থেকে ৩৮৬ জন প্রবাসী পোস্টাল ব্যালটের (আউট অব কান্ট্রি) মাধ্যমে নিবন্ধিত হয়েছিলেন। এবার আমরা প্রবাসীদের জন্য সর্বোচ্চ ৫০০ জনকে টার্গেট করেছি। এছাড়া দেশে অবস্থানরত (ইন-কান্ট্রি) সরকারি চাকরিজীবী, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, কারাবন্দি ও আনসার সদস্যদের জন্য গতবার ৪ হাজার ৪৫ জন নিবন্ধিত ছিলেন। এবার সেখানে ৫ হাজার পোস্টাল ব্যালটের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তবে আগের নিবন্ধিত প্রবাসীরা দেশে ফিরেছেন কি-না, সে বিষয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে নতুন করে কেউ নিবন্ধন করতে চাইলে, সেই সুযোগও থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ওই নির্বাচনে মোট ৭৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ ভোট পড়েছিল। এর মধ্যে বাতিল হওয়া ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোট বাদে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিজয়ী প্রার্থী (বর্তমান রাষ্ট্রপতি) ৬১ দশমিক ০৩ শতাংশ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ৩৬ দশমিক ০৩ শতাংশ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ১ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন।
