ব্রিকসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি: স্পিকার
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫১ | অনলাইন সংস্করণ

ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ এখনো ব্রিকসের সদস্য নয়, অংশীদার হওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। তবে ব্রিকসে যোগদানের বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট নীতিও এখনো প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।'
আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্রিকস প্রসঙ্গে স্পিকার আরও বলেন, 'ব্রিকস সম্মেলন শেষ হয়ে গেছে। ব্রিকসের ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার এখনো খোলাখুলিভাবে তাদের পলিসি জানায়নি। আগের সরকার থেকেই ব্রিকসে যোগদানের চিন্তাভাবনা ছিলো। কিন্তু এখন পর্যন্ত অপর পক্ষ থেকে তেমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে সঠিক মর্যাদা দিয়ে একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এখনো আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।'
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে মেজর হাফিজ বলেন, 'অতীত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে এবং সেখানে বসে রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছে, যা বাংলাদেশের কাছে প্রতিবেশীসুলভ আচরণ বলে মনে হয়নি। তবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক প্রয়োজন।'
তিনি বলেন, 'আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই। তবে সেটি হতে হবে সমমর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে। দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে যে ধরনের সম্পর্ক থাকা উচিত, বাংলাদেশ সেই ধরনের সম্পর্কই চায়। অতীতে যে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের কথা বলা হয়েছিল, আমরা সে ধরনের সম্পর্ক চাই না।'
ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে মেজর হাফিজ বলেন, 'দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে। বাংলাদেশ আশা করে, আগামী দিনে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সমমর্যাদা, পারস্পরিক সম্মান ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে সম্পর্ক আরও উন্নত হবে। বাংলাদেশ সব রাষ্ট্রের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।'
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, 'একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আগের সরকার বিদায় নেয়ার পর দীর্ঘ সময় অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব পালন করেছে। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। নতুন সরকারের বয়স মাত্র সাত মাস। দীর্ঘদিনের দুঃশাসনের ক্ষত সারিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে আরও সময় প্রয়োজন।'
সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন সংস্কার নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা চলছে। সরকার ও বিরোধীদল সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারলে সংসদের আগামী অধিবেশনে প্রয়োজনীয় আইন ও সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া সম্ভব হবে। এতে জনগণ দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও দুঃশাসন থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ পাবে।'
বিরোধীদলের ভূমিকা প্রসঙ্গে মেজর হাফিজ বলেন, 'বর্তমান সংসদে বিরোধীদল ভালো পারফর্ম করছে। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা থাকলে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে। তবে দ্রুত ক্ষমতায় যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে কেউ যেন পরিস্থিতি অস্থিতিশীল না করে, সেদিকেও রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।'
ভোলার গ্যাস সম্পদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ভোলায় বিপুল পরিমাণ গ্যাসের মজুত রয়েছে। এ গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারকে পরিকল্পনা নিতে হবে। গ্যাসের ভ্যালু অ্যাডিশনের জন্য ভোলায় সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।'
ভোলার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে তিনি বলেন, 'জেলার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের সংকট প্রকট। এরই মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। ভোলায় পর্যাপ্ত চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি একটি আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তিনি ভোলাবাসীর পক্ষ থেকে সুপারিশ করবেন।'
