১৫০ গ্যাসকূপ খনন, ৩ এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় আরও ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন এবং এলএনজি সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি নতুন টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি এসব তথ্য জানান।
মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধানে মধ্যমেয়াদে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১৫০টি নতুন কূপ খননের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। পরবর্তী ধাপে আরও ১৫০টি কূপ খননের কার্যক্রম নেওয়া হবে।
এলএনজি সরবরাহ সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান দুটি টার্মিনালের সঙ্গে আরও তিনটি টার্মিনাল যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্ভব হলে ২০২৮ সালের আগেই তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণের কাজও চলছে। এ প্রকল্পে এক বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি ব্যবসায়ী ও শিল্প সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিময়ের প্রসঙ্গ তুলে মাহদী আমিন বলেন, গ্যাস সরবরাহের সংকট দ্রুত কাটিয়ে উঠতে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর গ্যাসের প্রবাহ অনেকটাই বেড়েছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ডিজেলের দাম তুলনামূলক কম রাখতে সরকার এ খাতে সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিচ্ছে বলেও জানান মাহদী আমিন।
বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ করায় আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডিস রেটিংসের সিদ্ধান্তকে ‘সুখবর’ হিসেবে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন।
তিনি বলেন, এর ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের মর্যাদা বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতির হার কমেছে এবং খাদ্যপণ্য ও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির গতিও তুলনামূলকভাবে কমেছে।
সরকার জনকল্যাণ ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের উদ্যোগগুলো কয়েকটি অগ্রাধিকার খাতে বাস্তবায়ন করছে বলে জানান মাহদী আমিন। এর মধ্যে রয়েছে তারুণ্যের ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি, জীবনমান উন্নয়ন, নারীর অগ্রযাত্রা, সামাজিক সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ অবকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও বৈদেশিক সম্পর্ক।
সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে দাবি করেন তিনি।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও ছয় মাসে দেশে প্রবাসী আয় ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র।
ভাষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবছর ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীর বৈধভাবে ইতালিতে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি ওমানের শ্রমবাজারে কৃষি ও আধুনিক মৎস্য আহরণ খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন মাহদী আমিন।
কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রাখতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চাহিদার তুলনায় ১৫ লাখ ৬৮ হাজার মেট্রিক টন সার উদ্বৃত্ত রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
দীর্ঘদিনের সংকটের পর দেশ পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন মাহদী আমিন। তাঁর দাবি, মাত্র সাত মাসে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকারের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা দৃশ্যমান।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ২১২ দিনে বিভিন্ন উদ্যোগের ইতিবাচক ফল জনগণ পেতে শুরু করেছে। কিছু উদ্যোগের ফল পেতে আরও সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।
গ্যাস-বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, জনজীবনে স্বস্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন এবং এ ক্ষেত্রে সরকার সহযোগিতা করবে।
