বিচার কাজে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

বিচারিক কার্যক্রমের উপযুক্ত ক্ষেত্রে সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামি হাজিরকরণসহ তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ এবং সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। একই সঙ্গে এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটের ‘গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের’ হলরুমে সিলেট বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি এ নির্দেশনা দেন।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের চার জেলা— সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন আদালতে কর্মরত বিচারকরা অংশ নেন। তারা দ্রুত ও কার্যকরভাবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিচারক ও সহায়ক কর্মচারীর সংকট, বাজেট স্বল্পতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধান বিচারপতির সামনে তুলে ধরেন।
প্রধান বিচারপতি বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এসব সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল ভবন নির্মাণের ওপর জোর দেন।
আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ ও যথাযথ ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন জুবায়ের রহমান চৌধুরী। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিচারকদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেন তিনি।
আইন ও বিচারিক মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের তাগিদ দিয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের জন্য দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের প্রধান লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে অধস্তন আদালতের মনিটরিং কমিটির (সিলেট বিভাগ) দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারিক কর্মকর্তারা তাদের বিচারিক অভিজ্ঞতা, পেশাগত প্রত্যাশা এবং অধস্তন আদালতের বিচারকার্য পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় সিলেট বিভাগের চার জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম), চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর বিচারসেবা প্রদান, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচারিক কার্যক্রমে পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বৃদ্ধি এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা, প্রত্যাশা ও মতামত তুলে ধরেন।
