বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমা মাত্রই দেশেও কমিয়ে আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে আমাদের দেশেও দাম কমিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার ধোলাইখাল সংলগ্ন সাদেক হোসেন খোকা মাঠে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, সারাবিশ্বে এবং আমাদের পাশের দেশে জ্বালানি তেলের দাম বহুগুণ বেড়েছে। জনগণের দুর্ভোগ যেন না হয়, সেজন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম এক মাস জ্বালানি তেলের দাম এক টাকাও বাড়াননি। তবে সীমান্ত দিয়ে তেল পাচার রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই সর্বনিম্ন পরিমাণ মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের আর কোনো ঠাঁই নেই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গণহত্যায় জড়িত প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে যারা বাংলাদেশে গুম, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছে, সেই আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তিকে আর কোনোদিন বাংলাদেশের মাটিতে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না।
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার জুম মিটিং এবং ডিসেম্বরে ফিরে আসার গুঞ্জন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাকে অফিসিয়ালি ফেরত চেয়েছে সরকার। আমরা চাই তিনি দেশে ফেরত আসুন এবং বিচারের মুখোমুখি হোন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা যে দেশে অবস্থান করছেন, সেই দেশের সরকারকে বিনীত আহ্বান জানাই—আপনারা তাদের ফিরিয়ে দিন। আমরা আন্তর্জাতিক মানের বিচার সম্পন্ন করেছি। বিচার প্রক্রিয়ায় তারা চাইলে আপিলের সুযোগ পাবেন, তবে সাজা ভোগ করা বা বিচারের সম্মুখীন হওয়া থেকে কারও রক্ষা নেই, যোগ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্লোগান পরিহার ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমূল পরিবর্তনের চেষ্টা করতে হবে। কোনো ব্যক্তির নামে স্লোগান দেওয়া রাজনৈতিক সংস্কৃতি হতে পারে না। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এখন থেকে স্লোগান হবে রাজনৈতিক—যা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং শহীদদের রক্তকে মর্যাদা দেওয়ার কথা বলবে।
সরকারের বিগত ৭ মাসের কাজের সাফল্য ও পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ব্যাপক জনআকাঙ্ক্ষা নিয়ে গঠিত হয়েছে। সরকার যখন রাজনৈতিক শৃঙ্খলা রক্ষা, সাংবিধানিক সংস্কার ও গণতন্ত্র সুসংহত করার কাজ করছে, তখন একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ৭ মাসের মাথায় সরকার পতনের এক দফা এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচির হুঙ্কার দিচ্ছে।
বিরোধীদলের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলেও বিরোধীরা রাস্তায় নেমেছেন। তারা উত্তরের লংমার্চ শেষ করে দক্ষিণে যাচ্ছেন, আবার পূর্বে ও পশ্চিমে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে বাংলাদেশের মানুষ তাদের এই কৌশল বুঝে গেছে। ৭ মাসের মাথায় এ ধরনের তৎপরতা ভিত্তিহীন।
শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা চাই শেখ হাসিনা আসুক, প্রত্যাবর্তন চুক্তির মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে দেয়া হোক। এসে সাজা ভোগ করুক অথবা আপিল করার সুযোগ থাকলে আপিল করুক। আওয়াজ দিয়ে লাভ নেই।
আবা/এসআর/২৬
