প্রবীণদের সুরক্ষায় বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

আসছে ১লা অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রবীণদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার দৃঢ়তার সাথে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তার ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় একথা জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের এ শুভক্ষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সকল প্রবীণ নাগরিকের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বলেছেন, এমন একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে বয়সে তরুণ কিংবা প্রবীণ প্রতিটি মানুষ তাঁর সর্বোচ্চ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে মর্যাদাপূর্ণ ও পরিপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে। তিনি ৩৬তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস, ২০২৬-এর সার্বিক সফলতা কামনা করেছেন।
বার্তায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রবীণদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সচেতন এবং সতর্ক। একটি কল্যাণমুখী ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে সরকার বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জীবনচক্রের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার পাশাপাশি প্রবীণ বয়সে নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি, বয়স্ক ভাতা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত কল্যাণমুখী রাষ্ট্রের ধারণার আলোকে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, প্রবীণদের অবহেলা না করে তাঁদের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রাখা এবং সামাজিক সুরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করার লক্ষ্যে সরকার নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রবীণ জ নগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং উপকারভোগীর সংখ্যা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী করার কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে।
প্রবীণ ব্যক্তিগণ আমাদের পরিবার ও সমাজের ভিত্তি উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তাঁদের ত্যাগ, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার ওপর দাঁড়িয়েই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে। তাই একটি কল্যাণমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র-তিন স্তরেই তাঁদের প্রতি সম্মান, সহানুভূতি ও দায়িত্বশীলতার চর্চা অব্যাহত রাখা জরুরি। প্রবীণদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সমাজে সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় অবশ্যই সম্ভাব্য সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে; তবে আমাদের রাষ্ট্র এবং সমাজে আবহমান কালের ধর্মীয়, সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ যত বেশি বজায় থাকবে, সমাজে প্রবীণদের যত্ন, সম্মান এবং মর্যাদা তত বেশি সুরক্ষিত থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।
প্রবীণ দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য “The Age of Longevity: Rethinking Systems for Longer Lives”। মানুষের স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতি ও অগ্রগতির ফলে বিশ্বের দেশে দেশে মানুষের গড় আয়ু বাড়ছে। দীর্ঘায়ু মানুষের জন্য নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করছে; একই সঙ্গে দীর্ঘ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও পারিবারিক সহায়তার ব্যবস্থাগুলোকে সময়োপযোগী করে তোলার প্রয়োজনীয়তাও সামনে নিয়ে আসছে।
