১৭ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করেছে বিএনপি সরকার: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

গত ১৭ বছরে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করে বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, বিগত সময়ে বিদেশি সহায়তারও সঠিক ব্যবহার হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে ইউনিসেফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
মঈন খান বলেন, ধনী দেশগুলোও এখন তাদের আর্থিক সহায়তা কমিয়ে দিয়েছে। তার ওপর বিগত সময়ে বিদেশি সহায়তার সঠিক ব্যবহার হয়নি।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে যে অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে, বর্তমান সরকার সেটা বন্ধ করেছে। দুর্নীতি বন্ধ করে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে বিএনপি সরকার।
সাক্ষাৎ শেষে ইউনিসেফ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বলেন, বাংলাদেশের সকল মানুষের নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবেন তারা।
এ সময় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সুপেয় পানি সরবরাহ করা তার মন্ত্রণালয়ের অন্যতম কাজ। কিন্তু উজানে পানি আটকে দেওয়ার কারণে নদীর পানি কমে যাচ্ছে। লবণাক্ততা বাড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলে সুপেয় পানির সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
মঈণ খান বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রায় ২ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। ইউনিসেফের সঙ্গে কথা বলেছি, একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপরে। সেটা হচ্ছে কীভাবে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের কাছে আমরা নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে পারি।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘পানি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। কিন্তু এই পানি যদি দূষিত ও জীবাণুপূর্ণ হয়, তাহলে কিন্তু এই পানি মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠতে পারে। কাজেই আজকের দুনিয়াতে একদিকে পানি যেমন মানুষের জীবনের জন্য অপরিহার্য, অন্যদিকে এই পানি আবার মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
মঈন খান বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে বাংলাদেশে ১৮ কোটি মানুষের কাছে আমরা নিরাপদ পানি পৌঁছে দিতে পারি। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করেছি।
মন্ত্রী বলেন, নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আমাদের যে উজান, নদীর উজানগুলোতে পানি প্রত্যাহার করা হচ্ছে। যে কারণে পানি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে একদিকে যেমন আমাদের উত্তরের জেলাগুলোতে ডেজারটিফিকেশন হচ্ছে, অর্থাৎ মরুভূমিজনিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। আবার এর দ্বিতীয় একটি প্রভাব রয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে। কারণ সমুদ্রে যে আমাদের নদীবিধৌত বাংলাদেশের ওপর দিয়ে পানিগুলো বঙ্গোপসাগরে যায়, সেই পানির পরিমাণ যদি কমে যায়, তার ফলে সমুদ্রের পানির যে লবণাক্ততা, সেই লবণাক্ততা তখন ওপরের দিকে উঠতে থাকে। এবং যে কারণে আমাদের দক্ষিণাঞ্চলে বিগত কয়েক দশক ধরে পানি প্রত্যাহারের কারণে উজানে, সেখানে পানীয় জলের বিরাট সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, সব বিষয়গুলো বিবেচনা করে আমাদের দায়িত্ব মানুষের কাছে সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়া বং সেই উদ্দেশ্যে আমরা কীভাবে জাতিসংঘের সঙ্গে একসঙ্গে আমরা কাজ করে মানুষের কল্যাণে আমরা নিজেদের নিয়োজিত করতে পারি, তার অর্থায়ন কীভাবে হবে, এখানে একটি বিশেষ দিক আজকে এই সভায় ছিল, সেটা হচ্ছে শুধু জাতিসংঘ নয়, আমরা কিন্তু ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রতিনিধি এখানে ছিল, এখানে ওয়াটার এইড-এর প্রতিনিধি এখানে ছিল এবং এখানে ইউনিসেফ-এর যিনি হেড বাংলাদেশে আছেন, তিনি তো ছিলেনই।
আজকে সমন্বিতভাবে আমরা পরিকল্পনা করার চেষ্টা করছি এবং আমাদের যে এই লিড মিনিস্ট্রি, এলজিআরডি এই মিনিস্ট্রির প্রধান একটি প্রধান কাজ হচ্ছে মানুষের যে জীবন যে পানি, সেই নিরাপদ পানি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
