শিশু বিভাগের ডিগ্রি নেই, তবুও আইসিএমএইচের প্রধান স্বাচিপ সদস্য নুরুল হক ভূঁইয়া
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ২১:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

শিশু বিষয়ে বিশেষায়িত ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও শিশু-মাতৃ স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের (আইসিএমএইচ) শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক ডা. আ.ন.ম. নুরুল হক ভূঁইয়া। তিনি প্রতিষ্ঠানটির নবজাতক বিভাগের অধ্যাপক। তার চেয়ে জ্যেষ্ঠ বিসিএস কর্মকর্তা শিশু বিভাগে কর্মরত থাকা সত্ত্বেও তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) আইসিএমএইচের নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে নুরুল হক ভূঁইয়াকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে নুরুল হক ভূঁইয়া শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন। ওই দিন থেকেই আদেশটি কার্যকর হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নুরুল হক ভূঁইয়া শিশু বিভাগের অধ্যাপক নন; তিনি নবজাতক বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিশু বিষয়ে তার কোনো বিশেষায়িত ডিগ্রিও নেই। এ অবস্থায় তাকে শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের আরও দাবি, আইসিএমএইচের শিশু বিভাগে নুরুল হক ভূঁইয়ার চেয়ে জ্যেষ্ঠ বিসিএস কর্মকর্তা রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে জ্যেষ্ঠতা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষায়িত যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
নুরুল হক ভূঁইয়া ২১তম বিসিএসের কর্মকর্তা। তার কর্মকর্তা কোড ১০৯৯৫১ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) কোড ২৪১৯০। তথ্যমতে, তিনি আওয়ামীপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সদস্য। স্বাচিপের নারায়ণগঞ্জের সদস্যসংক্রান্ত তথ্য হিসেবে GM4601M ও C00994114041 নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, স্বাচিপের সদস্য হওয়ার কারণে একসময় তার পদোন্নতি আটকে ছিল। পরে বিভিন্ন মহলে তদবিরের মাধ্যমে তিনি পদোন্নতি পান। তবে এ অভিযোগের সমর্থনে কোনো সরকারি নথি বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইসিএমএইচের অফিস আদেশে নুরুল হক ভূঁইয়ার যোগ্যতা বা জ্যেষ্ঠতার বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এতে শুধু পূর্ববর্তী বিভাগীয় প্রধান স্থায়ীভাবে চলে যাওয়ায় তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে নুরুল হক ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তাকে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
