উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ২২:১০ | অনলাইন সংস্করণ

  গাজী মুনছুর আজিজ

আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে ব্যবধান কমাতে সরকার, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর ঋণের বোঝা কমাতে এ সহায়তা অনুদানভিত্তিক হতে হবে। আসন্ন জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ সামনে রেখে এ আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জনবান্ধব জলবায়ু নীতি: কপ-৩১ এ বাংলাদেশের অবস্থান’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। বাংলাদেশে জলবায়ু বিষয়ে কাজ করা ৩৩টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে আয়োজিত এ সংলাপে বাংলাদেশের জলবায়ুবিষয়ক অবস্থানপত্রের মূল দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তির এক দশক পর অঙ্গীকারের পাশাপাশি বাস্তবায়নের অগ্রগতিও নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থায়ন প্রয়োজন। অভিযোজন ও প্রশমন কার্যক্রমে সমান গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আলোচনায় স্বচ্ছতা বাড়াতে হবে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জলবায়ু নিয়ে কাজ করা তরুণদেরও এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

কপ-৩১-এ বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরার উদ্যোগের কথাও জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিশেষ ‘জুট প্যাভিলিয়নের’ মাধ্যমে এসব পণ্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পাটের বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশীয় কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মির্জা শওকত আলী। সমাপনী বক্তব্যে সঞ্চালক একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান ভুক্তভোগী। তাই আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে ঋণের বোঝা নয়, বরং অনুদানের ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা আদায়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।

স্বাগত বক্তব্যে ন্যাচার কনজার্ভেশন ম্যানেজমেন্টের (ন্যাকম) নির্বাহী পরিচালক ড. এস. এম. মঞ্জুরুল হান্নান খান সমন্বিত পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।