তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন, আমি পালিয়ে আসি: পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:৫৩ | অনলাইন সংস্করণ

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছেন তার জুনিয়র বন্ধু শাহরিয়ার দ্বীপ। জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ দাবি করেছেন, কিছু লোক ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। তবে দ্বীপের এই বক্তব্য যাচাই করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

দ্বীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পিবিআই। তার বক্তব্য তুলে ধরে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার দিন তাহসিফের সঙ্গে তিনি ঘটনাস্থলে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন লোক তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর দ্বীপ সেখান থেকে পালিয়ে যান।

পিবিআই কর্মকর্তাদের ধারণা, তুরাগ নদের রাজবাড়ী ঘাট এলাকায় মাদক কারবারিদের ধাওয়ার মুখে পড়ে নদীতে ঝাঁপ দিতে পারেন তাহসিফ। ওই এলাকায় মাদকের স্পট রয়েছে বলে পরিচিতি আছে। তবে দ্বীপের দেওয়া তথ্যসহ ঘটনার অন্যান্য বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। পিবিআই জানিয়েছে, মোটরসাইকেলটি তাহসিফ সাউরির। তুরাগ নদ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ দূরে মাজার বস্তি এলাকায় এটি পাওয়া যায়।

পিবিআই আরও জানিয়েছে, বিমানবাহিনীর সাবেক এই কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলাটির তদন্ত করছে নৌ পুলিশ। তবে ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই ছায়া তদন্ত চালানোর পাশাপাশি নৌ পুলিশকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে। ছায়া তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত পরবর্তী সময়ে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

যেভাবে নিখোঁজ হন তাহসিফ

গত মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন কে এম তাহসিফ সাউরি। পরদিন বুধবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নৌ পুলিশ। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে সাদা পাজামা ও কালো জামা ছিল। তার হাতে একটি ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। ওই ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

তাহসিফের বাবা জানান, গত ২৭ অক্টোবর সারাদিন পরিবারের সদস্যদের জন্য কেনাকাটা করেছিলেন তাহসিফ। সন্ধ্যার পর দ্বীপ নামের এক জুনিয়রের ডাকে বাসা থেকে বের হন তিনি। এরপর আর বাসায় ফেরেননি।