তারেক রহমানের সঙ্গে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতার বৈঠক

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৬:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিং।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ সাক্ষাৎ হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং দুই রাজনৈতিক দল—চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’’

বৈঠকে লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে ছিলেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসেন লিউ হাইশিং। সিপিসি নেতা হিসেবে তাঁর এই সফরে মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাবে।

উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দেশটির প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত সমাধানে সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিপিসির মন্ত্রীর কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলে জানিয়েছেন উপপ্রেস সচিব। শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, তারেক রহমান ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এ সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

“লিউ হাইশিং বলেছেন, চীন রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন।”

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন লিউ হাইশিং।

উপপ্রেস সচিব বলেন, লিউ হাইশিং জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

লিউ হাইশিং বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এ সম্পর্কের বিশেষ স্থান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া এখন তাদের দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এ ঐতিহ্য আরও এগিয়ে যাবে।

“সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে, কৃষির উন্নয়নে অবদান রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে। সেই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

দুই দলের সম্পর্ক বহুমাত্রিক করতে আগ্রহী চীন

উপপ্রেস সচিব বলেন, বিএনপি ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে আরও জোরদার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষ চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

“লিউ হাইশিং বলেছেন, দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে চীন আগ্রহী।”

এ সময় বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব।

তিনি বলেন, “এই বিষয়টির পাশাপাশি রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির প্রতি চীনের সমর্থনের কথা জানিয়েছেন লিউ হাইশিং।”