মজুরি বোর্ড যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবে: মাহদী আমিন

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত নতুন মজুরি বোর্ড ডিসেম্বরের মধ্যে মজুরি ঘোষণা করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, মজুরি বোর্ডের ওপর সরকারের পূর্ণাঙ্গ আস্থা রয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য, যৌক্তিক ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

মাহদী আমিন বলেন, আগে পাঁচ বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও এবার তিন বছর অন্তর নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের প্রথম বৈঠক স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামনে দ্বিতীয় বৈঠকও দ্রুত আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নভেম্বর ও ডিসেম্বর এই দুই মাসের মধ্যে আলোচনা শেষ করে ডিসেম্বরের ভেতরেই নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে বোর্ড জানিয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সেখানে অবশ্যই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা হবে, শিল্পের স্বার্থ রক্ষা হবে, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে।

পোশাকশিল্পের স্বার্থে শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে এবং গার্মেন্টস খাতের স্বার্থ রক্ষা করতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই খাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ঐতিহাসিকভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে এ খাতের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকারও পোশাকশিল্পের উন্নয়ন ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে চায়।

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বৈঠকে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে আন্তরিকতা দেখা গেছে, তা কারখানাগুলোতেও বজায় থাকা প্রয়োজন। বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে, সাবলীলভাবে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে ফিরবেন বলে সরকার প্রত্যাশা করে। তবে মজুরি বোর্ডের সঙ্গে সংলাপ, পরামর্শ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মাহদী আমিন বলেন, শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের মধ্যে কিছু বহিরাগত এসে উসকানি দিচ্ছেন এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন। বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ শ্রমিকদের রক্ত ঝরছে।

এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে বলে সরকার আশা করে।

শ্রমিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকদের ত্যাগ ও সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করেই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার শ্রমিকদের পাশে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও মমত্ববোধ নিয়ে থাকবে। মজুরি বোর্ডও নিরপেক্ষভাবে মজুরি ঘোষণা করবে বলে সরকারের বিশ্বাস।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনেও শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও শ্রমিকদের বড় অবদান ছিল। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো আমরা সবাই বাংলাদেশি। তাই আসুন, সবাই মিলে দেশের পুনর্গঠনে কাজ করি।