ঢাকা রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলো রাফসান নিঝুম

ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলো রাফসান নিঝুম
ছবি: ইউনিসেফ বাংলাদেশ

মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১-এ টেক্সট ক্যাটাগরী (অ-১৮)তে প্রথম পুরষ্কার জিতেছেন রাফসান নিঝুম। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে প্রকাশিত ‘বর্ণবাদমুক্ত পৃথিবীতে পরিচয় হোক মানুষ হিসেবে’ শিরোনামের লেখার জন্য এ সম্মাননা অর্জন করেন তিনি।

মূলত বর্ণবাদ নিয়ে তার নিজের অভিজ্ঞতা ও দেখা বিষয়গুলোকে তুলে ধরেন তিনি। কালো চামড়া ও বর্ণের মানুষগুলোকে জীবনে কেমন সমস্যায় পড়তে হয়, সেইসব নিয়ে লিখেছেন সাংবাদিক নিঝুম।

শিশুদের বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রে সাংবাদিকতার উৎকর্ষতাকে স্বীকৃতি দিয়ে ২০০৫ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড। শিশু অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে নীতিনির্ধারক এবং বৃহত্তর জনসাধারণের কাছ থেকে শিশুদের জন্য সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে এই অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করে ইউনিসেফ। তবে কোভিড-১৯ প্রকোপ থাকায় এবারের আসরটি আয়োজন করা হয় অনলাইনে। লাইভ দেখানো হয় ইউনিসেফ বাংলাদেশের ফেইসবুক পেইজ ও ইউটিউবে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট। তিনি বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর প্রতি জনসাধারণের মনোযোগ আকর্ষণে এবং শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহির সম্মুখীন করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ইউনিসেফ মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডস শিশু সাংবাদিকদের প্রতিবেদনকেও স্বীকৃতি দেয়। যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিশুদের জীবনকে প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত করে এমন সব বিষয়ে শিশুদের সরাসরি কথা বলার সুযোগ করে দেওয়াটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রথমবার অংশ নিয়ে পুরষ্কার অর্জনের অনুভূতি জানিয়ে রাফসান নিঝুম আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, “যে কোন স্বীকৃতিই নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। আমার ছোট ক্যারিয়ারে এটি অনেক বড় একটা অর্জন। এমন সম্মাননা ভবিষ্যতে নতুন যে কোন কাজে বাড়তি অনুপ্রেরণা যোগাবে।”

নিঝুম ছাড়াও আরও ২১ জন গণমাধ্যমকর্মীকে মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড দিয়ে সম্মানিত করেছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক এই সংস্থা!

ইউনিসেফ জানায়, একটি ক্রেস্ট ও সনদের সাথে প্রথম পুরষ্কার হিসেবে ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরষ্কার হিসেবে ২৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় পুরষ্কার হিসেবে ১৫ হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে বিজয়ীদের ঠিকানায়।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নিঝুম বলেন, “আমার কোনো ভবিষ্যত পরিকল্পনা নাই। কারণ আমি কখনো ভাবি নাই আমি সাংবাদিকতা করব! কখনো ভাবি নাই আমি মিডিয়া জগতে ক্যামেরার পেছনে কাজ করব! পরিকল্পনা করে এই জীবনে কিছুই করি নাই আমি”

মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের এবারের আসরে টেক্সটভিত্তিক প্রতিবেদনের জন্য বিচারক ছিলেন পুরস্কারপ্রাপ্ত ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেন, বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও শিক্ষক শাহনূর ওয়াহিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন।

ফটোগ্রাফির জন্য বিচারক ছিলেন রয়টার্সের ভিডিও সাংবাদিক এবিএম রফিকুর রহমান, অধিকারকর্মী ও পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী জান্নাতুল মাওয়া এবং পুরস্কারপ্রাপ্ত আলোকচিত্রী আবু নাসের সিদ্দিক।

ভিডিও প্রতিবেদনের জন্য বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন ব্রডকাস্ট সাংবাদিক ফারজানা মিথিলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, বাংলাদেশে রয়টার্সের প্রধান সংবাদদাতা রুমা পাল।

উল্লেখ্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফসান নিঝুমের সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে হ্যালো বিভাগ দিয়ে।

এরপর কন্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করেছেন দৈনিক ইত্তেফাকের অনলাইন ও দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকায়। বর্তমানে স্পাইস টেলিভিশনে ট্রেইনি জার্নালিস্ট হিসেবে কর্মরত আছেন। পাশাপাশি বেসরকারি প্রোডাকশন হাউজ সল্ট কমিনিউকেশনসের হয়ে এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে মিডিয়ায় কাজ করছেন।

মীনা মিডিয়া
আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত