আমি তো বিজ্ঞানী হব

টুকটাক শব্দে ঘুম ভেঙে যায় অভিকের। উঠে বিছানায় বসে। জায়গায় জায়গায় জমানো খেলনার টুকরো অংশ দেখে একটু ভয় পায় সে। আব্বু বুঝি আজ সত্যি সত্যি তাকে মারবে। যদিও বাবা কখনই তাকে মারে না। তবুও ভয় 
হয় তার। ভাবে হয়তো একটু বেশি অন্যায় করে ফেলেছে সে
অভিকের ঘরভর্তি নানা ধরনের খেলনা। এসব খেলনা কাকু এনে দেন। মামা এনে দেন। আব্বু এনে দেন। আম্মুও এনে দেন। অভিক খেলনা দিয়ে খেলার চেয়ে খেলনা নিয়ে প্রশ্ন করতেই বেশি পছন্দ করে। বাবা অফিস করেন। মা বাসায় থাকেন। মজার মজার রান্না করেন। ঘর গোছান। আর অভিকের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।
অভিকরা থাকে উত্তরার ছোট্ট একটা ফ্ল্যাট বাড়িতে। ফ্ল্যাটের চারপাশটা খোলা। অনেকটা মফস্বল এলাকার মতো। পার্থক্য শুধু তাদের ফ্ল্যাটের ওপর কিছুক্ষণ পর পর প্লেন উড়ে যায়। সু..উ..উ.. করে যখন আওয়াজ হয় অভিক দৌড়ে ফ্ল্যাটের বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। জানালার গ্রিল ধরে তাকিয়ে দেখে পাখাহীন প্লেনটা কেমন করে উড়ে যায়। অভিকেরও একটা খেলনা প্লেন আছে। কাকু এনে দিয়েছেন।
‘মা, প্লেনটা পাখা ছাড়া কেমন করে উড়ে?’। প্লেনটা দেখে এসে আম্মুকে প্রশ্ন করে অভিক।
‘জানি না, বাবা!’ সহজ উত্তর দেন আম্মু।
‘তুমি শুধুই বলো কিছু জানো না!’ অভিমানের সুরে বলে অভিক। ‘তবে কে জানে?’ আবার প্রশ্ন করে অভিক।
‘যারা চালায়, তারা জানেন আর যারা তৈরি করেছেন, তারা জানেন।’
অভিকের আবার প্রশ্ন, ‘কে চালায়? কে তৈরি করেছে?’
‘যারা প্লেন চালায়, তাদের বলে পাইলট। পাইলটরা প্লেন চালায়। আর যারা তৈরি করেছে তাদের বলে বিজ্ঞানী! তবে বিজ্ঞানীরা আরও অনেক কিছুই তৈরি করেন।’
‘তবে কাকু যে প্লেনটা দিয়েছে, সেটা কী বিজ্ঞানীরা তৈরি করেছে?
‘না, এটা তৈরি করেছে একটা খেলনা কোম্পানি। আর এ প্লেনটাকেই বড় করে আকাশে ওড়ার উপযোগী করে তৈরি করেন বিজ্ঞানীরা। প্লেনে করে মানুষ এক দেশ থেকে আরেক দেশে যায়।’
আর প্রশ্ন বাড়ায় না অভিক। আম্মুও কাজে মন দেন। অভিক তার ঘরে ফিরে আসে।
অভিক বসে বসে তার খেলনা প্লেনটা দেখে। অল্প টানাটানি করে; কিন্তু খুলতে পারে না। হঠাৎ অভিকের মনে পড়ে, সেদিন কাকু টেলিভিশন খুলতে লম্বা মতো কী যেন একটা ব্যবহার করেছিল। অভিক কাকুর ঘরে ঢুকে টেবিলের ড্রয়ার থেকে যন্ত্রটা নিয়ে এলো।
রান্না শেষে রুমে ঢুকে অবাক হয়ে গেলেন অভিকের আম্মু। ঘরের ভেতর যেন একটা যুদ্ধ হয়ে গেছে! ঘরভর্তি খেলনার টুকরো টুকরো অংশ। নাট, বল্টু, স্ক্রুসহ অনেক কিছু! একটা লেখনাও আর আস্ত নেই। সব খেলনাই খোলা। অভিক স্ক্রু ড্রাইভারটা হাতে নিয়ে ঘুমিয়ে আছে। এসব করে হয়তো অল্পকিছুক্ষণ আগে ঘুমিয়েছে সে। তাই আর অভিককে ডাকে না আম্মু। বরং গিয়ে অভিকের আব্বুকে ডেকে আনে। একটু আগেই তিনি অফিস থেকে এসেছেন। কি না কী হয়েছে ভেবে দ্রুত ছুটে আসেন আব্বু। পাশের রুম থেকে কাকুও আসেন সঙ্গে। সবাই অবাক!
‘স্ক্রু ড্রাইভারটা ও পেল কোথায়?’ প্রশ্ন করে অভিকের আব্বু।
‘আমিও তো সেটাই ভাবছি!’ বলেন আম্মু।
‘আরে স্ক্রু ড্রাইভারটা তো আমার টেবিলের ড্রয়ারে ছিল। সেদিন রেডিওটা খুলে ওটা ড্রয়ারে রেখেছিলাম। কিন্তু ও কেমন করে পেল?’ অবাক হয়ে বলেন কাকু।
‘আর কা-টা দেখেছ, সব খেলনা একটা একটা করে খুলেছে! ওর মাথায় এমন ভূত কেমন করে চাপল। এমন তো আর আগে কখনও হয়নি।’ বিস্ময় নিয়ে বলেন অভিকের আম্মু। ‘তুমিই দেখ। আমি ওদিকটায় গেলাম।’ 
আব্বু একটা একটা করে খেলনা গোছান। একেকটা খেলনা একেক জায়গায় জমা করে রাখেন। কাকু গোসল করতে চলে যান। 
টুকটাক শব্দে ঘুম ভেঙে যায় অভিকের। উঠে বিছানায় বসে। জায়গায় জায়গায় জমানো খেলনার টুকরো অংশ দেখে একটু ভয় পায় সে। আব্বু বুঝি আজ সত্যি সত্যি তাকে মারবে। যদিও বাবা কখনই তাকে মারে না। তবুও ভয় হয় তার। ভাবে হয়তো একটু বেশি অন্যায় করে ফেলেছে সে।
অভিকের আব্বু অভিকের পাশে বসেন। অভিকের মাথায় হাত বুলিয়ে দেন। কাছে টেনে বসান।
একটু একটু করে ভয় কেটে যায় অভিকের।
‘এসব কী করেছ আব্বু? বলো শুনি!’ প্রশ্ন করেন বাবা।
আব্বুর মুখের দিকে তাকিয়ে অভিক বলে, ‘সবকিছু দেখছিলাম, কেমন করে এটা তৈরি করেছে? কিন্তু ভেতরে না কিছুই নেই। ফাঁকা।’ কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলে অভিক। ‘সত্যিকারের প্লেনের মতো না। আর এটা উড়তেও পারে না।’
‘সব দেখে কী করবে তুমি?’ প্রশ্ন করেন আব্বু।
‘আম্মু বলেছে প্লেন নাকি বিজ্ঞানীরা তৈরি করেন। বাবা, আমি তো বিজ্ঞানী হব। তাই সব দেখছিলাম।’
অবাক হয়ে তাকায় বাবা অভিকের দিকে, আর ভাবেন ছেলের স্বপ্নের কথা।


শিশু বাথাইন্নাদের অন্যরকম জীবন
চারপাশে নদী। মাঝখানে জেগে ওঠা বিশাল চর। এর নাম-দমারচর। বঙ্গোপসাগরের
বিস্তারিত
অগ্নিশিখা
অগ্নিশিখা  মালেক মাহমুদ    অগ্নিশিখায় কুঁকড়ে গেছি  আছি মরার মতো  আগুন! আগুন! জ্বলছে আগুন আগুন জ্বলে
বিস্তারিত
বাংলা শকুনের গল্প
শুধু বাংলা শকুন নয়, এক সময় বাংলাদেশে সাত প্রজাতির শকুন
বিস্তারিত
বৈশাখ এলো
  বৈশাখ এলো বৈশাখ এলো গ্রীষ্মদুপুর কালো মেঘে ঘাপটি মেরে ঢেকে
বিস্তারিত
চৈতালী হাওয়া
চৈতালী হাওয়ায় গ্রীষ্ম কাটে গ্রীষ্ম যেনো কষ্টের, চৈত্রের দাহন অভিশাপের
বিস্তারিত
বকের বিড়ম্বনা
সবাই মিলে বকের বিরুদ্ধে বিচার নিয়ে গেল হুতুম প্যাঁচার কাছে।
বিস্তারিত